ঢাকা  শুক্রবার, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকজ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বন্ধই হয়ে গেলো মার্কিন এয়ারলাইন্স

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বন্ধই হয়ে গেলো মার্কিন এয়ারলাইন্স

নিউজ ডেস্ক: ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং বড় লোকসানের মুখে বন্ধ হয়ে গেল আমেরিকার জনপ্রিয় সাশ্রয়ী বিমান সংস্থা ‘স্পিরিট এয়ারলাইনস’।

শনিবার (৩ মে) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

স্বল্পমূল্যে বিমান পরিষেবার পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত এই সংস্থাটির বিদায় মার্কিন এভিয়েশন শিল্পে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা

স্পিরিট এয়ারলাইনস জানায়, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দুবার দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন জানিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক হারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সংস্থাটি আর কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারছে না। বর্তমানে সংস্থাটির সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভ ডেভিস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা আমরা যোগাড় করতে পারিনি।’

হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার ফলে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্পিরিট এয়ারলাইনসের জ্বালানি ব্যয়ের ওপর। জেপি মরগানের বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে চলতি বছর শেষে সংস্থাটির খরচ আরও ৩৬০ মিলিয়ন ডলার বেড়ে যেত।

এদিকে ফ্লোরিডাভিত্তিক এই সংস্থাটিকে রক্ষায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি ‘বেইল-আউট’-এর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমনকি প্রয়োজনে সরকার সংস্থাটির ৯০ শতাংশ মালিকানা নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছিল। তবে বন্ডহোল্ডারদের সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠন চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় সেই পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখেনি।

অন্যদিকে, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইরান যুদ্ধের চেয়েও বাইডেন প্রশাসনের ভুল নীতিকে দায়ী করেছেন মার্কিন পরিবহন মন্ত্রী শন ডাফি। তিনি জানান, ২০২৩ সালে জেটব্লু’র সঙ্গে স্পিরিট এয়ারলাইনসের একীভূত হওয়ার প্রস্তাব বাইডেন প্রশাসন আইনি মারপ্যাঁচে আটকে না দিলে আজ এই পরিণতি হতো না।

স্পিরিট এয়ারলাইনস বন্ধ হওয়ার ফলে প্রায় ১৪ হাজার কর্মী বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। শুধু তাই নয়, এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতেও। তথ্য বলছে, যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া ইতোমধ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আয়ারল্যান্ডের রায়ানএয়ার এবং এশিয়ার ভিয়েতনাম এয়ারলাইনসের মতো সংস্থাগুলোও এখন তাদের রুট কমিয়ে আনার কথা ভাবছে।

সূত্র: টাইম

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular