ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসর্বশেষঝিকরগাছায় গরিবের রিলিফের চাল মজুদকারীর লাখ টাকা জরিমানা

ঝিকরগাছায় গরিবের রিলিফের চাল মজুদকারীর লাখ টাকা জরিমানা

তারিক মোহাম্মদ, ঝিকরগাছা(যশোর): যশোরের ঝিকরগাছায় পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দকৃত গরিবের বিপুল রিলিফের (টিআর, কাবিখা) ঈদউপহারের চাল সস্তাদামে ক্রয় করে গোপন মজুদ ও “ভারতীয় জনপ্রিয় চালের ব্র্যান্ড ‘নুরজাহান’ লোগো সম্বলিত বস্তায় তাড়িঘড়ি প্যাকিংয়ের সময় হাতেনাতে ধরা পড়লেন নুর ইসলাম(৬০)ওরফে খোকন মিয়া।

এঘটনায় ভ্রাম্যমান আদালত অতিমুনাফালোভী মজুদদার চাউল ব্যবসায়ী খোকন মিয়াকে একলাখ টাকার অর্থদন্ড করেছেন। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিক পরিশোধ যোগ্য, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ ঘোষণা দেন।
জানাগেছে, বুধবার (০৪জুন) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভুপালী সরকার উপজেলা সদরের ঝিকরগাছা কাটাঁখাল এলাকার জাপান কমিউনিটি সেন্টারের নিচতলার একটি গোডাউনে আকস্মিক অভিযান চালান।

এসময় ওই গোডাউনের ভাড়াটিয়া ও চাউল ব্যবসায়ী নুর ইসলাম ওরফে খোকন মিয়ার উপস্থিতিতে তার গোডাউনে বিপুল পরিমাণ টিআর,কাবিখার বরাদ্ধকৃত সরকারি চালের গোপন মজুদ হাতেনাতে ধরা পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে,মজুদকৃত এই চালের পরিমাণ প্রায় সহস্রাধিক বস্তা। চালভর্তি সরকারি বস্তার পাশাপাশি সেখানে ভারতীয় নুরজাহান লোগো সম্বলিত বিপুল পরিমাণ রিলিফের চালভর্তি বস্তাসহ নুরজাহান লোগোর নতুন খালি বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়। একইস্থানে চাল রি-প্যাকিং করে ভারতীয় লোগো নুরজাহান ব্রান্ডের নতুন বস্তায় ভরে বাজারজাতকরণে ব্যবস্থা করছিলেন বলে জানাগেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি তার প্রতারণা ও কৃতকর্মের দায় ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে অকপটে স্বীকার করে লিখিত জবানবন্দি দিয়েছেন।
ভ্রাম্যমান আদালত চলাকালে উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মোহাম্মদ আল-আমিন বিশ্বাস, ঝিকরগাছা থানার উপপুলিশ পরিদর্শক তাপস কুমারসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতার পাশাপাশি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, গোপন মজুদকৃত এই বিপুল পরিমাণ চালের প্রকৃত উৎস কি তা তদন্তের জোর দাবী উঠেছে। এই চাল সরকারি গোডাউন থেকে ডিও লেটারের মাধ্যমে নাকি অন্য কোন অসাদোপায়ে মজুদ গড়ে তোলা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ, ঈদ উপহারের কার্ডধারী প্রতি ১০কেজির খুচরা চালে হাজার বস্তার চালের মজুদ জনমনে সন্দেহের উদ্রেক করেছে। কে বা কার মাধ্যমে কয়টি ডিও লেটারের মাধ্যমে এই চাল কেনা হয়েছে তাও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ। রাতারাতি এই চালের মজুদ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হতে পারে বলেও আশঙ্কা অনেকের।

এদিকে ঝিকরগাছার একশ্রেণির অতিমুনাফালোভী মজুদদার চাউল ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে দেশিচাল ভারতীয় লোগো নুরজাহান ব্র্যান্ড ব্যবহার করে বিক্রি ও গোপন মজুদ গড়ে তোলার বিস্তর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ভোক্তা অধিকার নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সবসময় থেকেছে রহস্যময়, নির্বিকার-র্নিলিপ্ত।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি ভোক্তার অধিকার রক্ষার স্বার্থে সক্রিয় ভূমিকা পালন না করে রহস্যজনক ভূমিকায় অবতীর্ণ রয়েছেন।

গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যশোর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তারা মাঝেমধ্যে গোপনীয়তা বজায় রেখে যশোরের ঝিকরগাছায় দু’একটি প্রতিষ্ঠান ও মজুদদার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়েছে নামসর্বস্ব জরিমানা আদায় করে দায়িত্ব শেষ করেন। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তথ্য এড়িয়ে যায় অনেকটা লুকোচুরির মাধ্যমে বিদায় নেন।

ভোক্তাসাধারণ ও গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত ও রহস্যময় ভূমিকা ও গোপনীয়তার কারণে ভুক্তভোগী ও সচেতন সাধারণ মানুষ ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নেতিবাচক বা বিরূপ মন্তব্য করে থাকেন।
০৪.০৬.২৫

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular