ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসর্বশেষঝিকরগাছায় বিএনপির দু’গ্রুপের সংর্ঘষে নিহত ১ , আটক ৬

ঝিকরগাছায় বিএনপির দু’গ্রুপের সংর্ঘষে নিহত ১ , আটক ৬

তারিক মোহাম্মদ, ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংর্ঘষে আহত দুই ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই মো. আশাদুল হক আশা (৪৬) কে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্যে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। অপর ভাই মো. মহিদুল ইসলাম (৫০) গুরুতর আহত অবস্থায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জানাগেছে, তারা দুই জনই, গঙ্গানন্দপুর বালিয়া গোরশুটি গ্রামের আতাল ময়রার ছেলে।
শনিবার (১০মে) সন্ধ্যায় ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে ছুটিপুর জামতলা মোড়ে মেসার্স ওলিয়ার ট্রেডার্স দোকানের সামনে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।
আটককৃতরা হলেন, ছুটিপুর গ্রামের দবির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে আহম্মদ আলী (৬৫), মোহাম্মদপুর গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে জোনাব আলী(৪৮), কাগমারী গ্রামের মৃত তফসিরের ছেলে সাহাঙ্গীর হোসেন (৩২), মোহাম্মদপুর গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে আরব আলী (৪৮), কাগমারি গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে অলিয়ার রহমান (৫৫) ও ছুটিপুর জামতলা মোড়ের মহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিব হোসেন (২২)।
স্থানীয়রা জানান, গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন অসন্তোষ বিরাজ করছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় দুই ভাই তাদের লোকজন নিয়ে প্রথমে ছুটিপুর বাজার কমিটির সভাপতি আহম্মদ আলীর দোকানে হামলা করতে যায়। লোকজনের বাধার মুখে সেখানে অস্ত্রের মহড়া প্রদর্শণ করে স্থান ত্যাগ করে।
ঘন্টাখানেক পর আশা ও মহিদুল দুই ভাই তাদের জামতলা মোড় দলীয় অফিস থেকে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বের হন। পথিমধ্যে বাজার কমিটির সভাপতি কাগমারী গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে বিপ্লব, গঙ্গানন্দপুর গ্রামের রমজানের ছেলে নশু, জিওলিগাছা গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে সিরাজ ও কাগমারী গ্রামের লুৎফর খাঁর ছেলে মোহর তাদের উপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আর্তকিত হামলা করে তাদেরকে গুরুতর জখম করে।
নিহত আশার বড় ভাই শহিদুল ইসলাম রবিবার (১১ মে) এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আমার ভাই দীর্ঘদিন ওমানে ছিল। সে এবং যারা তাকে মেরেছে সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় বাজারে দলীয় একটি কার্যালয় করাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কলহ হয়। গতকাল সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষরা আমার দুই ভাইকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে।
নিহত আশার মেঝো বোন নাছিমা বেগম জানান, আমি বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় ১৭জনের নাম উল্লেখসহ ১০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করেছি। তিনি আরও বলেন, নিহত আশা প্রবাসে ছিলেন দীর্ঘদিন। মাসখানেক আগে দেশে ফিরেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘তারা বিএনপির কর্মী, দলীয় কোনও পদ নেই। বিদেশ থেকে ফেরার পর আশা এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। যারা মেরেছে তারাও একই সঙ্গে ওঠাবসা করতো।’

ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিএনপি নেতা বলেন গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির এই দুটি গ্রুপকে নিয়ন্ত্রন করেন উপজেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মোমিনুর রহমান।
আশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী সকালে ছুটিপুর বাজারে মিছিল বের করে খুনিদের বিচারের দাবি জানান। এসময় ছুটিপুর বাজারে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বাজারের সকল দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
১নং গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাজিদ জানান, আমরা এলাকায় কোন বিশৃংখলা দেখতে চাইনা, যারা এসব করছে তারা দলের ভালো চাইনা। তাদের দল থেকে বহিস্কার করা জরুরী।
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনর্চাজ মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ রয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। আহত দুইজনের মধ্যে আশার মৃত্যু হয়েছে। ৬জন আটক রয়েছে। #

 

 

 

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular