নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : চার দিনের থেমে থেমে বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
শুক্রবার (১ মে) ভোর থেকেই ঢাকায় অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়। ভোর ৫টার কিছু পর থেকে সকাল ৭টার আগে পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। সকাল ৮টার পরও অনেক সড়কে পানি আটকে থাকতে দেখা গেছে।
গ্রিন রোড, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরসংলগ্ন সড়ক, জিগাতলা, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়া, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, মালিবাগ রেলগেট, মৌচাক, মগবাজার ও হাতিরঝিলের মধুবাগ এলাকায় সড়কে পানি জমে থাকার খবর পাওয়া গেছে।
ছুটির দিন ও মহান মে দিবস হওয়ায় সকালে সড়কে যানবাহন তুলনামূলক কম ছিল। এতে ভোগান্তি কিছুটা কম হলেও, কর্মস্থলে যাওয়া মানুষদের দুর্ভোগ এড়ানো যায়নি।
মিরপুর থেকে কারওয়ান বাজারে যাওয়ার পথে ভোগান্তিতে পড়েন সাংবাদিক মানিক রাহান বাপ্পী। তিনি বলেন, “মিরপুরে রিকশার পাদানি পর্যন্ত পানি উঠে গিয়েছিল। দুই পা তুলে বসেও পানি এড়াতে পারিনি। রিকশা চলার সময় ছিটে এসে ভিজে গেছি। এই অবস্থাতেই অফিস করতে হয়েছে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ছয়টি বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং রাজধানীতেও আরও বৃষ্টি হতে পারে। এতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার পূর্বাভাসে ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এর ফলে টানা তাপপ্রবাহ কমে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে এই বৃষ্টিই এখন নগরবাসীর জন্য নতুন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা জোরদার না করলে এই ভোগান্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।



