ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৬ বাতিলের দাবি

ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৬ বাতিলের দাবি

সুমন দত্ত: ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৬ বাতিলের দাবি জানিয়েছে আটাব সদস্য কল্যান ঐক্য পরিষদ। তারা এই অধ্যাদেশকে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসার অনুকূলে নয় বলে জানিয়েছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) জাতীয় প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আটাব সদস্য কল্যাণ ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন টিপু, আটাবের সাবেক সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মাহবুব, সংগঠনের সদস্য সচিব মোহাম্মদ জুমান চৌধুরী, হাবের অর্থ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, আটাবের যুগ্মসচিব মাহমুদ ভুঁইয়া মানিক, আটাব সংস্কার পরিষদের আহ্বায়ক গোফরান চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নতুন অধ্যাদেশের একাধিক ধারা ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসাকে কার্যত অচল করে দেবে। এসব ধারা কার্যকর হলে দেশে প্রায় ৫ হাজার ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার প্রভাব পড়বে হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের ওপর।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অন্য কোনো ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে অধিকাংশ এজেন্সির পক্ষে যাত্রীসেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। কারণ দেশে নিবন্ধিত প্রায় ৫ হাজার ৮০০ ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে মাত্র ৮০০টি আইয়াটা সদস্য। ফলে বাকিগুলো বার্ষিক বিক্রয় বিবরণী দেখাতে না পারায় লাইসেন্স নবায়নেও সংকটে পড়বে।

এছাড়া অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ১০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টির বিধানকে অযৌক্তিক ও অবাস্তব বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। তাদের মতে, আর্থিক সক্ষমতার অভাবে হাজারো এজেন্সির পক্ষে এ শর্ত পূরণ করা সম্ভব নয়।

শুনানি ছাড়াই ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিতের বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, এতে হয়রানির সুযোগ তৈরি হবে। যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানা বৃদ্ধির প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করা হয়।

আটাব সদস্য কল্যাণ ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন টিপু বলেন, অধ্যাদেশের ধারা ৪-এর উপধারা (গ) এর দফা (ছ)-এ অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সীর জন্য ১০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টির বিধান রাখা হয়েছে। আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাভেল এজেন্সী আয়াটা সদস্য হতে পারেনি। তাদের পক্ষে কোনোভাবেই ১০ লাখ টাকা জামানত প্রদান করা সম্ভব নয়।

অধ্যাদেশের ধারা ৯-এর উপধারা (আ)-এর নতুন দফা ৩ অনুযায়ী শুনানি ছাড়াই সরকার সাময়িকভাবে নিবন্ধন সনদ স্থগিত করতে পারবে। এতে বলা হয়, শুনানি ব্যতীত লাইসেন্স স্থগিতের সুযোগ রাখা হলে ট্রাভেল এজেন্সীগুলো হয়রানির শিকার হবে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে ধারা ১১-এর উপধারা ১ অনুযায়ী শাস্তির বিধান ৬ মাসের কারাদণ্ডের পরিবর্তে ১ বছর এবং জরিমানা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পূর্বের আইনটি পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ ছিল। তাই আগের মতো ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বহাল রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাভেল এজেন্সীর মালিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে এই ‘কালো অধ্যাদেশ’ বাতিলের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে ট্রাভেল ব্যবসায়ীরা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular