নিউজ ডেস্ক : রাজধানীসহ দেশের একাধিক উড়ালসড়কে সম্প্রতি ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে এক অদ্ভুত ও ভয়ানক দৃশ্য: রাতের অন্ধকারে বা কম আলোতে টানটান করে বাঁধা সুতা/চিকন তার রাস্তার ওপর ঝুলে থাকে, যা অপ্রস্তুত মোটরসাইকেল আরোহী বা পথচারীর জন্য মুহূর্তের মধ্যে প্রাণঘাতী ফল ডেকে আনতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওর সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মিলিয়ে বিষয়টির প্রকোপ দ্রুত বিস্তার পেয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এসব সুতা মূলত উড়ালসড়কের দুই পাশের বেগে টান দিয়ে বাঁধা থাকে; দিনের আলোতে তা সহজে দেখা গেলেও সন্ধ্যা-রাতের অন্ধকারে মোটরসাইকেল চালকরা সচেতন না থাকলে গলায় বা বুকে সুতার সঙ্গে ধাক্কা লাগলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে কয়েকজন আরোহী অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন, কেউ-কেউ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন—পিছনে থাকা হেলমেট না থাকার প্রভাব ঘাতকভাবে লক্ষ্য করা গেছে।
চোখে দেখা ভিডিওতে সুতা এমন উচ্চতায় স্থাপন করা থাকে যে হেলমেট পরেও গুরুতর আঘাত হতে পারে; তা টানটান অবস্থায় থাকলে ধারালো অস্ত্রের মতো আচরণ করে। অনেকেই ধারণা করছেন—এটি ছিনতাই কিংবা নাশকতা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হচ্ছে; আবার কৌতুক বা ভীতি প্রদর্শনেরও মত প্রকাশ পাওয়া গেছে। যে কোনো উদ্দেশ্যই হোক, ফলাফল মানুষের জীবন ও জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন—গলার উচ্চতায় অত্যন্ত পাতলা-ধারালো কোনো জিনিস শ্বাসনালী বা ঘাড়ের প্রধান ধমনীকে আঘাত করতে পারে, যা দ্রুত রক্তক্ষরণ বা শ্বাসকষ্টের কারণ হয়ে মুহূর্তে প্রাণহানি ঘটাতে পারে। বিশেষত হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলচালকদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি লক্ষণীয়ভাবে বেশি। তাই তারা শর্তসাপেক্ষভাবে তিনটি জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন—ধীরগতি, ফুল-ফেস হেলমেট ব্যবহার এবং সন্ধ্যার আগে অপ্রচলিত রুট এড়ানো।
আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সূত্র জানায়, ঘটনাগুলো গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার ওপর টহল জোরদার করা হয়েছে; সিসিটিভি ফুটেজ তল্লাশি করে দোষীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। যদি কেউ মানসিকভাবে বা পরিকল্পিতভাবে এমন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এই আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ কর্তা।
বিশেষজ্ঞ ও নাগরিকরা দ্রুত প্রশাসনের কাছে কয়েকটি বাস্তবপন্থি প্রস্তাব তুলেছেন — উড়ালসড়কে পর্যাপ্ত আলো জ্বালিয়ে দেওয়া, নিহত-ঝুঁকি কমাতে ন্যূনতম উচ্চতায় অস্থায়ী ব্যারিয়ার স্থাপন, নিয়মিত সিসিটিভি ও মোবাইল টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় ‘হটলাইন’ চালু করা। পাশাপাশি শিক্ষামূলক ক্যাম্পেইন চালিয়ে পথচলতি ও মোটরসাইকেল আরোহীদের সচেতন করা জরুরি।
সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কতা: সন্ধ্যার আগে অপ্রয়োজনীয় দ্রুত পথ এড়ান; রাত্রে চললে ফুল-ফেস হেলমেট ব্যবহার করুন; সন্দেহ হলে ধীরে যান এবং পাশে বসতি বা দোকানে পৌঁছে পরিবেশ যাচাই করুন; অবিলম্বে পুলিশকে কল করে পরিস্থিতি জানান।
এটি সামাজিক নিরাপত্তার একটা গুরুতর চ্যালেঞ্জ। ব্যবস্থা নিতে দেরি করলে কোনো পরিবারের জন্য অনবদ্য শোক দানা বাঁধবে। তাই প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকরা একযোগে কাজ করে অবিলম্বে সুতা অপসারণ, নিয়মিত নজরদারি ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন—এমনটাই দাবি করছে জনতার নিরাপত্তাবোধ।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




