ঢাকা  সোমবার, ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকট্রাম্পের বোর্ড অব পিস-এর তালিকা নিয়ে ইসরাইলের আপত্তি

ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস-এর তালিকা নিয়ে ইসরাইলের আপত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যুদ্ধ-পরবর্তী শাসন তদারকির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর অধীনে যে গাজা প্যানেল কাজ করবে, তার সদস্য তালিকার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে ইসরাইল।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ইসরায়েল এই আপত্তি জানায়। খবর এএফপি।

জেরুজালেম থেকে এএফপি জানায়, ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ নামে পরিচিত ওই প্যানেলে উল্লেখযোগ্যভাবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও কাতারের একজন কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। হোয়াইট হাউস শুক্রবার এ প্যানেলের ঘোষণা দেয়।

শনিবার ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের প্রক্রিয়া এগোয়, যখন মিসর, তুরস্ক, আর্জেন্টিনা ও কানাডার নেতাদের এতে যোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।

ট্রাম্প আগেই নিজেকে এ সংস্থার চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন। তিনি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি বিতর্কিত ধারণা প্রচার করছেন, যার বড় অংশ টানা দুই বছরের ইসরাইলি বোমাবর্ষণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরও ‘বোর্ড অব পিস’-এ নিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং জ্যেষ্ঠ আলোচক জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফকে মনোনীত করেছেন, যাদের বেশির ভাগই ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’-এর সদস্য।

শনিবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘বোর্ড অব পিস-এর অধীনস্থ গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডের গঠন সংক্রান্ত ঘোষণা ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হয়নি এবং এটি ইসরাইলের নীতির পরিপন্থি।’

‘প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন।’

এদিকে ‘বোর্ড অব পিস’-এর তত্ত্বাবধানে গাজা শাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের কমিটি কায়রোতে তাদের প্রথম বৈঠক শুরু করেছে; এতে কুশনার উপস্থিত ছিলেন।

কানাডায় প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী জানান, তিনি ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে চান। তুরস্কে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের একজন মুখপাত্র বলেন, তাকে বোর্ডের ‘প্রতিষ্ঠাতা সদস্য’ হতে অনুরোধ করা হয়েছে।

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানান, প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে যোগদানের অনুরোধটি কায়রো পর্যালোচনা করছে।

আমন্ত্রণপত্রের একটি ছবি শেয়ার করে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এক্সে লেখেন, এই উদ্যোগে অংশ নেওয়া সম্মানের হবে।

এএফপিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে ব্লেয়ার বলেন, ‘বোর্ড অব পিস গঠনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বের জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই এবং এর এক্সিকিউটিভ বোর্ডে নিয়োগ পাওয়ায় সম্মানিত বোধ করছি।’

২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনে তার ভূমিকার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে ব্লেয়ার একজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। ট্রাম্প নিজেও গত বছর বলেছিলেন, ব্লেয়ার যেন ‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য পছন্দ’ হন তা তিনি নিশ্চিত করতে চান।

২০০৭ সালে ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ার পর ব্লেয়ার ‘মিডল ইস্ট কোয়ার্টেট’, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে বহু বছর কাজ করেছেন।

হোয়াইট হাউস জানায়, ‘বোর্ড অব পিস’ ‘শাসন সক্ষমতা গঠন, আঞ্চলিক সম্পর্ক, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বৃহৎ পরিসরের অর্থায়ন ও পুঁজি সংস্থান’ এসব বিষয়ে কাজ করবে।

এ পর্যন্ত বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা (ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ব্যবসায়ী), মার্কিন কোটিপতি অর্থায়নকারী মার্ক রোয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে কর্মরত ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রবার্ট গ্যাব্রিয়েল।

শনিবার ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ ‘বোর্ড অব পিস’-এর গঠন নিয়ে সমালোচনা করে জানায়, এটি ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করে।

এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলে, বোর্ডটি ‘ইসরাইলি মানদণ্ড অনুযায়ী এবং দখলদারিত্বের স্বার্থে’ গঠিত হয়েছে।

ওয়াশিংটন জানিয়েছে, গাজা পরিকল্পনা দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে- যেখানে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন থেকে এগিয়ে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের ইসরাইলের ওপর হামলার পরই ব্যাপক ইসরাইলি অভিযান শুরু হয়।

শুক্রবার ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্সকে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’-এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। এ বাহিনী গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামাসের স্থলাভিষিক্ত হতে একটি নতুন পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের বিশেষ অভিযানে যুক্ত জেফার্স ২০২৪ সালের শেষ দিকে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন, এরপরও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে পর্যায়ক্রমিক হামলা চলেছে।

রিয়েল এস্টেট উন্নয়নকারী ট্রাম্প আগে বিধ্বস্ত গাজাকে রিভিয়েরা-ধাঁচের রিসোর্ট এলাকায় রূপান্তরের কথা বলেছিলেন। পরে জনগণকে জোরপূর্বক স্থানচ্যুত করার আহ্বান থেকে তিনি সরে এসেছেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular