নিউজ ডেস্ক: দেশের সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিকসহ সব নাগরিককে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ডিজিটাল সেবা থেকে কোনো নাগরিক বাদ যাবে না।
সোমবার সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের মাল্টিপারপাস হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনোভেশন শোকেসিং ২০২৫-২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। যত দ্রুত সম্ভব সব খাতে ডিজিটালাইজেশন সম্পন্ন করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিকসহ দেশের প্রতিটি নাগরিক এর সুবিধা পান। তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রেও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। শিল্পী, সংগীতশিল্পী থেকে শুরু করে গ্রামের প্রান্তিক মানুষ-সবাইকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করলেই হবে না, মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি ও আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষকে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই।
ডিজিটাল রূপান্তরে বিশ্বের শীর্ষ দেশ এস্তোনিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে দেশটি সফর করছে বলেও জানান তিনি। প্রতিনিধি দলে আইসিটি উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন। তিনি বলেন, এস্তোনিয়া বর্তমানে ডিজিটাল রূপান্তরে বিশ্বের অন্যতম সফল দেশ এবং অনেক রাষ্ট্র তাদের মডেল অনুসরণ করছে।
ডিজিটাল সেবার প্রসারে ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখনো অনেক গ্রাহক অনলাইন সেবা গ্রহণ করছেন না। এ বিষয়ে সেবাগ্রহীতাদের সচেতন করতে প্রয়োজনে আলাদা কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে, যাদের দায়িত্ব হবে ডিজিটাল সেবার আওতা বাড়ানো। তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের কাছে আকর্ষণীয় উপায়ে তথ্য পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি বলেন, বীমা দাবি নিষ্পত্তি, পুঁজিবাজারসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও অপব্যবহার রোধেও ডিজিটাল সেবার পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি।
অনুষ্ঠানের উদ্যোগের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের আয়োজন অনেকের জন্য নতুন ধারণার দ্বার খুলে দেয়। তবে কেবল প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, এর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।



