ঢাকা  শনিবার, ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকট্রাম্পের Xi বৈঠকে পররাষ্ট্রনীতির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট

ট্রাম্পের Xi বৈঠকে পররাষ্ট্রনীতির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট

নিউজ ডেস্ক : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ এবং হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের প্রভাব আবারও তুলে ধরতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় ট্রাম্পের ক্ষমতা ও প্রভাবের কিছু সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নানা চাপের পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতিতেও ট্রাম্পকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। একই সময়ে তাঁর জনপ্রিয়তা নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। মিত্র দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ছে।

এর মধ্যে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতে চীনের দ্রুত অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

শি-ট্রাম্প বৈঠকে বড় অর্জন সীমিত

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক হয়। রাষ্ট্রীয় সফরকে ঘিরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন থাকলেও বৈঠক থেকে বড় ধরনের চুক্তির ঘোষণা আসেনি।

তবে,, বৈঠকের সবচেয়ে স্পষ্ট ফল হলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চলমান বাণিজ্য সমঝোতার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানো। এই সমঝোতার মেয়াদ নভেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

অর্থাৎ, দুই দেশ আপাতত বাণিজ্য উত্তেজনা কম রাখার সুযোগ পেলেও বড় সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি।

তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের অবস্থান

বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তাইওয়ান। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, শি জিনপিং ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন না করার কথাও বলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে এই বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নতুন কোনো অবস্থান পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

বিরল মাটির ওপর চীনের প্রভাব

চীনের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্পের আগের তুলনায় অপেক্ষাকৃত নমনীয় অবস্থানও আলোচনায় এসেছে। এর একটি কারণ হিসেবে চীনের বিরল মাটি বা rare earth minerals-এর ওপর নিয়ন্ত্রণ।

বিরল মাটি প্রযুক্তি ও গাড়ি শিল্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রয়োজনীয় উপাদান। চীন এসব খনিজের সরবরাহে বড় প্রভাব রাখে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির উপদেষ্টা ব্রেট ব্রুন বলেন, ট্রাম্প শক্তিশালী অবস্থান দেখালেও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থানে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।

আরও চাপের মুখে ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মতো একাধিক ইস্যুতে ট্রাম্পের নীতি বাস্তবায়নে বাধা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।

ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখোমুখি। ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তাঁর পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে শি জিনপিংয়ের সফরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক সমঝোতার পথ তৈরি হলেও বড় বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো রয়ে গেছে।-

এই বৈঠক ট্রাম্পের কূটনৈতিক তৎপরতার কিছু সাফল্য দেখালেও একই সঙ্গে তাঁর ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে।  সূত্র: রয়টার্স

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular