আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র যেন তুরস্কের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কিংবা এর ইঞ্জিন বিক্রি না করে—এমন জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, আঙ্কারাকে এই সক্ষমতা দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান সামরিক ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং ইসরায়েলের আকাশসীমায় কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
সোমবার (৬ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু তুরস্কের বর্তমান নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তুরস্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হলেও দেশটির নেতৃত্ব এমন একজনের হাতে রয়েছে, যিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে ধ্বংসের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তুরস্ক ন্যাটোভুক্ত দেশ সাইপ্রাসের উত্তরাঞ্চল দখল করে রেখেছে, গ্রিসকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে এবং জেরুজালেম নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, বর্তমান তুর্কি সরকার “মুসলিম ব্রাদারহুড দ্বারা সংক্রমিত একটি শাসনব্যবস্থা”, যা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব পোষণ করে। তাঁর ভাষায়, এমন একটি সরকারের হাতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তুলে দেওয়া শুধু ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন সরবরাহ করা হলে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। তাঁর মতে, বর্তমানে এই ভারসাম্য মূলত ইসরায়েলের আকাশ শ্রেষ্ঠত্ব এবং অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে বজায় রয়েছে।
নেতানিয়াহু তুরস্কের বিরুদ্ধে হামাসকে রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়ার অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, ইরানের ইসলামি শাসনের বিরুদ্ধে আঙ্কারার কার্যকর অবস্থান না নেওয়াও উদ্বেগের বিষয়। এসব কারণেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের উচিত তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত না করা এবং যুদ্ধবিমান বা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে আঙ্কারা আবারও এই কর্মসূচিতে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র–তুরস্ক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।




