নিউজ ডেস্ক : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক উত্তর ফিল্ডকে জঙ্গলের আবর-অবস্থা থেকে উদ্ধার করে রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও র্যাম্পগুলো পুনরুদ্ধার উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র এক বিশাল প্রকৌশলাত্মক কাজ সম্পন্ন করেছে; প্রকল্পটি প্যাসিফিক অঞ্চলে দ্রুত বিস্তারশীল সামরিক অপারেশনের প্রস্তুতির অংশ।
সংযুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইঞ্জিনিয়ার দলগুলো প্যাসিফিক অঞ্চলের তিয়ানিন দ্বীপে অবস্থিত ইতিহাসসম্মত উত্তর ফিল্ড (North Field) বিমানঘাঁটিটিকে জঙ্গলের আবর-অবস্থা থেকে উদ্ধার করে একটি বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছে। রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে পরিষ্কার, কংক্রিট রিঙ্কনিং এবং মৌলিক সামরিক অবকাঠামো ফিরিয়ে আনার কাজ চলমান রয়েছে, যা আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র জানা যায়, কাজে ইউ.এস. এয়ার ফোর্সের RED HORSE ইউনিট, নেভির সিবিস (Seabees) ও বহুনিরিক্ষক কনস্ট্রাকশন টীম অংশগ্রহণ করছে। তারা দিনরাত কাজ করে বনজভূমি খনন, ক্ষতিগ্রস্ত কংক্রিট রানওয়ে সারাই ও জরুরি লগিস্টিক র্যাম্প পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিষ্কারে প্রথম ধাপ হিসেবে রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের ওপর ছায়াছবি কাটানো ও গাছ-গাছালি সরানো হয়েছে; পরবর্তী ধাপে প্রযুক্তিগত পরীক্ষণ, ইলেকট্রিক্যাল লাইন পুনঃস্থাপন ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য ট্যাংকার-স্টেশন নির্মাণ পরিকল্পনা রয়েছে।
এক কর্মকর্তা বলেন, “এটি কেবল পুরনো স্থাপনা পুনরুজ্জীবিত করা নয়—এটি আমাদের অপারেশনাল নমনীয়তা বাড়ানোর একটি কার্যকর উদ্যোগ।” তিনি আরও যোগ করেন, এখানে পুনর্বহালের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরে ছোট-বড় বিভিন্ন বিমানের দ্রুত উত্তোলন ও ল্যান্ডিং সক্ষম হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর ফিল্ডের পুনরুদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রের Agile Combat Employment (ACE) কৌশলের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ; এই কৌশল বড় একক ঘাঁটির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বহু বিচ্ছুরিত ও তৎপর অপারেশনাল সাইট তৈরির ওপর জোর দেয়। ফলে সংকটঘন সময়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ও প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা বাড়বে।
প্রকল্পটি ব্যাপক লগিস্টিক সহায়তা, নির্মাণ সামগ্রী ও আর্থিক বিনিয়োগ দাবি করে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে জমি ব্যবস্থাপনার ও পরিবেশগত অনুমোদন সংক্রান্ত আলোচনা চলছে—খরচ ও সময়সীমা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উন্মুক্তভাবে দেওয়া হয়নি। এক সরকারি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি: “এ ধরনের কাজের জন্য পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সময় লাগে, তবে আমরা প্রয়োজনীয় সবাইকে যুক্ত রেখে এগোচ্ছি।”
বৃহৎ সামরিক নির্মাণ কার্যক্রম স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা বলছেন, বনভূমি ও স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, পাশাপাশি স্থানীয় জীবিকা ও পরিবেশগত সঙ্কটের ঝুঁকি থাকতে পারে। কিছু নাগরিক সংগঠন পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) ও স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে পরামর্শের আহ্বান জানাচ্ছে।
সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে—রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে বরাবর কনস্ট্রাকশন সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয়েছে; কিছু এলাকায় নতুন র্যাম্প ও সরবরাহ লাইন গঠনের কাজও দৃশ্যমান। সামরিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেন, এই চিত্রগুলি প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা দেয়, যদিও বিবরণী সমূহ অফিসিয়াল ঘোষণা পর্যন্ত সীমিত থাকে।
উত্তর ফিল্ডের পুনরুজ্জীবন প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন কৌশলবিদরা। চীন-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রাজনীতিক ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এসব উদ্যোগের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।
উত্তর ফিল্ড পুনরুদ্ধার কর্মসূচি ইতিহাসকে নতুন রূপ দিচ্ছে এবং একই সঙ্গে সামরিক কৌশলগত পরিবর্তনের প্রতিফলন বহন করছে। প্রকল্পটি এখনও চলমান; পরবর্তী কয়েক মাসে অতিরিক্ত অবকাঠামো ও সমর্থন সুবিধা সম্পন্ন হলে এটি আঞ্চলিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় একটি সক্রিয় নোড হিসেবে কাজ করবে—তবে পরিবেশগত প্রভাব, স্থানীয় অধিকার ও অঞ্চলীয় কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নজরে রাখা হবে। সূত্র: স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস
ঢাকানিউজ২৪/মহফ



