জালাল উদ্দিন মন্ডল : ময়মনসিংহের নান্দাইলে জলপাই কুড়ানোর কথা বলে ডেকে নেওয়া সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার চর বেতাগৈর ইউনিয়নের চর ভেলামারী সরদারবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুটির নাম রাজন মিয়া (৭)। সে চর ভেলামারী গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত কিশোর তহসিন হৃদয় (১৪) একই এলাকার আবু বক্কর ছিদ্দিকের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে জলপাই কুড়িয়ে আনার কথা বলে রাজনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় তহসিন। পরে তাকে নিজের বাড়ির একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। এ সময় রাজন চিৎকার করলে তহসিন তার মুখ চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয় বলে পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরে রাজনের মরদেহ বাড়ির পাশের জঙ্গলের ভেতর একটি বাথরুমের কাছে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করলে চাপের মুখে তহসিন মরদেহের অবস্থান জানায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তহসিন হৃদয় ও তার মা মিনা আক্তারকে আটক করে নান্দাইল মডেল থানায় নেওয়া হয়েছে।
তহসিনের মা মিনা আক্তার বলেন, ‘আমি আশ্রয়ণ প্রকল্পে মায়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম। খবর পেয়ে বাড়িতে এসে এমন ঘটনা দেখতে পাই। পরে পুলিশ আমাকে ও আমার ছেলেকে থানায় নিয়ে এসেছে।’
থানায় তহসিন হৃদয় বলেন, ‘এটা আমার জীবনের ভুল। চিৎকার দেওয়ায় পরে তাকে মেরে ফেলছি।’
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।




