নিউজ ডেস্ক : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্যরা। এ সময় সেখানে শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১১টায় দক্ষিণ বাগমারা কোটবাড়ী এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে অপ্রতিমকে তার বাড়ির পাশের কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় সে। সন্ধ্যার পরও বাসায় না ফেরায়, তার মা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে রাতেই মা নাহিদা বেগম ছেলের ছবি দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, ‘আমার ছেলেকে আমি বিকেল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতিম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় পরনের এই পাঞ্জাবিটা ছিল গায়ে। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসে নাই। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন।
আপনাদের কাছে হাতজোড় করছি, আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি। ফোন নম্বর ট্র্যাক করে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত ফোন ওর সঙ্গে নাই। ফেসবুক আইডি যে ফোনে সেটা বাসায় রেখে গেছে। আপডেট থাকলে জানাব। আপনারা দয়া করে চেষ্টা করেন।’
পরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের একটি টিলায় অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়া যায়। এরপর কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে রাত ৮টার দিকে অপ্রতিমের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রথমে তুহিন নামের এক তরুণকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহিম ও আনাস নামে আরো দুজনকে আটক করা হয়েছে।




