ঢাকা  শনিবার, ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশনান্দাইলে স্কুলের দখলকৃত জায়গা ও গাছ বেদখলের অভিযোগ

নান্দাইলে স্কুলের দখলকৃত জায়গা ও গাছ বেদখলের অভিযোগ

জালাল উদ্দিন মন্ডল নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৮নং সিংরইল ইউনিয়নের দিলালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরোনো রেজিউলিশন ও আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিদ্যালয়ের জায়গা ও মূল্যবান গাছ নিজেদের দখলে নিয়ে গেছেন জমিদাতার দুই সন্তান। দিলালপুর গ্রামের মরহুম আঃ ছাত্তারের পুত্র ছিদ্দিকুর রহমান ও রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে জমিদাতা আঃ ছাত্তারসহ ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বাক্ষরিত বিদ্যালয়ের একটি রেজিউলিশন অনুযায়ী মাঠের দক্ষিণ পার্শ্বে ৫ হাত প্রস্থের একটি রাস্তা বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়। সম্প্রতি ওই জমির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং রাস্তায় থাকা প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের ১১টি মেহগনি ও ১টি রেন্ট্রি গাছ বড় হওয়ায় তা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে জমিদাতার সন্তানরা বাবার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করে জমিটি নিজেদের দাবি করছেন।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এ নিয়ে ছিদ্দিকুর রহমান গং বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত বিদ্যালয়ের পক্ষে থাকা ১৯৮৮ সালের রেজিউলিশনটি সত্য বলে প্রতীয়মান করে আদেশ প্রদান করেন। উক্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের মৌখিক নির্দেশনায় সার্ভেয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিদ্যালয়ের নামে কোনো রেজিস্ট্রি দলিল না থাকায় শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য মাত্র ৪ ফুট রাস্তা রেখে বাকি অংশ বিবাদী পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এই ফয়সালার পর ছিদ্দিকুর রহমান গং প্রাচীর নির্মাণ করে মূল্যবান গাছগুলো তার দখলে নিয়ে যান।

দিলালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, “১৯৮৮ সালের রেজিউলিশন মূলে জায়গাটি বিদ্যালয়কে দেওয়া হয়েছিল। রাস্তা হওয়ায় তখন রেজিস্ট্রি করা হয়নি। এখন জমিদাতার সন্তানরা সেই দান অস্বীকার করছে এবং বিদ্যালয়ের মূল্যবান গাছগুলো জোরপূর্বক নিয়ে যাচ্ছে।”

অভিযুক্ত ছিদ্দিকুর রহমান গং জানান উক্ত রেজিউলিশনটি ভূয়া। তবু পৈত্রিক সম্পত্তি বিধায় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য চারফুট জায়গা বিদ্যালয়কে দিয়েছেন এবং গাছগুলোও তারাই লাগিয়েছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, “একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানি করা হয়েছে। যেহেতু বিদ্যালয়ের নামে কোনো রেজিস্ট্রি দলিল ছিল না, তাই মানবিক ও সামাজিক বিবেচনায় বাদীপক্ষের কাছ থেকে ৪ ফুট রাস্তা শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য বের করে নেওয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular