নোয়াখালী, নিজস্ব প্রতিবেদক : নোয়াখালী জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমাম হোসেন বাবু (৩২) নামের এক যুবকের মৃত্যু ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলা ও গাফিলতির কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে নোয়াখালী সদর উপজেলার প্রাইম হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমাম হোসেন বাবু সেনবাগ উপজেলার কেশারপাড়া ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি করার পর বাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা দেননি। তাদের দাবি, চিকিৎসকদের অবহেলা ও দায়িত্বে উদাসীনতার কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা দায়ীদের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের ডিউটি চিকিৎসক তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘রোগীর চিকিৎসায় কোনো অবহেলা করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হাসপাতালের ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।



