ঢাকা  শুক্রবার, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeশিক্ষাপদোন্নতি নিয়ে জট: কর্মবিরতিতে ববি শিক্ষক, অচল একাডেমিক কার্যক্রম

পদোন্নতি নিয়ে জট: কর্মবিরতিতে ববি শিক্ষক, অচল একাডেমিক কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক : পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকরা টানা কর্মবিরতি পালন করায় অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি বুধবার থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউনে রূপ নেয়। ফলে ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

তবে কর্মবিরতি শুরুর দুই দিন পর শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে চলমান পরীক্ষাগুলো নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অচলাবস্থার জন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি বড় অংশ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলমকে দায়ী করছেন। অন্যদিকে উপাচার্য শুরু থেকেই পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

১৫ বছর বয়সী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পূর্ণ অধ্যাপক রয়েছেন মাত্র একজন। প্রায় দুই বছর ধরে সব ধরনের পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অধ্যাপক পদে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন ২৪ জন শিক্ষক, সহযোগী অধ্যাপক পদে ৩০ জন এবং সহকারী অধ্যাপক পদে ছয়জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত প্রায় ছয় মাস ধরে এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষকদের একাধিক দফায় আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত দাবি আদায়ে শিক্ষকরা কর্মবিরতির পথে হাঁটেন।

সূত্রগুলো বলছে, গত ১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এক পরিপত্রে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি, পদোন্নতি ও পেনশন অভিন্ন নীতিমালার আওতায় আনার নির্দেশ দেয়। এতে বলা হয়, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজস্ব বিধি-প্রবিধি প্রণয়ন করে চ্যান্সেলরের (রাষ্ট্রপতি) অনুমোদন নিতে হবে।

এই নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই ববিতে পদোন্নতির বিষয়টি আটকে যায়।

তবে শিক্ষকদের দাবি, ইউজিসির পরিপত্র জারির আগেই ববির ২৪ জন শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য নিয়োগ বোর্ডের বৈঠক ও সুপারিশ সম্পন্ন হয়েছিল। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালার ভিত্তিতেই প্রক্রিয়াটি শেষ হয়। তাই ওই সুপারিশ বাস্তবায়নে নতুন পরিপত্র কোনো বাধা হতে পারে না।

ববি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুল কাইউম বলেন, “এই অচলাবস্থার জন্য একমাত্র উপাচার্য দায়ী।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলম বলেন, “ইউজিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই কাজ করতে হবে। আইনগতভাবে এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। অন্যথায় ভবিষ্যতে পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও সমস্যায় পড়তে পারেন, এমনকি পেনশন সুবিধাতেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।”

তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিরসনে তিনি ঢাকায় অবস্থান করে ইউজিসির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

শুধু শিক্ষকই নন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রায় অর্ধশত কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

ববি কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সাবেক সভাপতি মো. হাসানুজ্জামান বলেন, “দুই বছর ধরে আমরা পদোন্নতির অপেক্ষায় আছি। সম্প্রতি বৈঠকে উপাচার্য ইউজিসির আইনি জটিলতার কথা বলেছেন, কিন্তু এতে আমাদের ভোগান্তি বাড়ছে।”

এদিকে চলমান সংকট নিরসনে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষক ও প্রশাসনের অনড় অবস্থানের কারণে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular