নিজস্ব প্রতিবেদক: বাজারের বর্তমান সভাপতি নজরুল ইসলাম ও কামরুজ্জামান আপন প্যানেলের নির্বাচনে নজরুল সভাপতি হিসেবে জয়ী হলেও কামরুজ্জামান আপন বিপুল ব্যবধানে হেরেছে। কিন্তু বর্তমানে দুইজনই পলাশী কাঁচাবাজারকে করেছে অস্থিতিশীল করে রেখেছে, এমনই অভিযোগ নিয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মুখেমুখে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, নজরুল ইসলাম ও কামরুজ্জামান আপন এই প্যানেলের দুইজনই লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান জামালের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদেরকে দিয়েই জামাল এই কাঁচাবাজার নিয়ন্ত্রন করতো। একই সঙ্গে সভাপতি নজরুল ইসলামের দুই ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা ও ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে সর্বদা বডিগার্ড হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নজরুল ইসলাম কীভাবে এখনো পলাশী বাজারের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও নজরুল ইসলামের প্যানেলের সাধারন সম্পাদক প্রার্থী কামরুজ্জামান আপন সাবেক আওয়ামীলীগের নেতা হয়ে কিভাবে বিএনপি;র নেতা পরিচয়ে কাঁচাবাজারের হর্তাকর্তা হতে পারে?
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, বর্তমানে নজরুল ইসলাম স্থানীয় বিএনপি নেতা পরিচয় ছত্রচ্ছায়ায় থেকে বাজারের ওপর প্রভাব বিস্তার করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, পলাশী কাঁচাবাজারে এই সভাপতি ও তার গং সাবেক আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে এখন বিএনপি;র স্থানীয় নেতাদের মিছিল-মিটিংসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহন করে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কাছের লোক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। এসব আওয়ামীলীগ কর্মীদের বিএনপির বিভিন্ন মিছিল মিটিংএ দেখতে পেয়ে দলীয় নেতাদের ভাবমূর্তিও অনেকটাই ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে দাবী বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের।
পলাশী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সে অন্যতম যুবদল নেতা হিসেবে ব্যানার টাঙিয়েছে। কাঁচাবাজার ব্যবসায়ীদের মতে, দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামীলীগ করা লোক কিভাবে হঠাৎ যুবদল নেতা হয়ে যায়! যেহেতু সে সবসময় স্থানীয় নেতাদের সহচর্যে থাকেন, তাই কাঁচাবাজার ব্যবসায়ীদের ধারনা, স্থানীয় নেতারাই তাদের লোককে কাঁচাবাজারে চাঁদাবাজির দায়িত্ব দিয়েছেন। আর স্থানীয় নেতাদের ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায়না।
এ বিষয়ে বিএনপি ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আওয়ামীলীগের সাথে সম্পৃক্ততা সম্পর্কে কথায় কথায় জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামীলীগের সময় মার্কেটের সবাইকেই আওয়ামীলীগের মিছিল মিটিং এ যেতে হয়েছে। আর মার্কেটে ব্যবসা করতে আমাকে যেতে হয়েছে।




