নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরকে নিরাপদ ও স্বচ্ছ কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে দেশের প্রথম জাতীয় ফ্রিল্যান্সার নিবন্ধন ও আইডি কার্ড কার্যক্রমের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম freelancers.gov.bd আনুষ্ঠানিকভাবে আগামীকাল (১৩ জানুয়ারি) উদ্বোধন করা হবে। VAPT (Vulnerability Assessment এবং Penetration Testing) সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট আইসিটি বিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের ফ্রিল্যান্সাররা প্রথমবারের মতো সরকারি স্বীকৃত ডিজিটাল পরিচয়পত্র (Freelancer ID Card) পাবেন। আধুনিক প্রযুক্তি ভিত্তিক এই আইডি কার্ডের মাধ্যমে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সাররা নিচে উল্লেখিত সুবিধাগুলি উপভোগ করতে পারবেন:
১। ব্যাংক ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডসহ ব্যাংকিং সেবা সহজলভ্য হবে।
২। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা বাড়বে।
৩। দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ফ্রিল্যান্সারদের পেশাগত মর্যাদা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
৪। freelancers.gov.bd প্ল্যাটফর্মে জাতীয় ফ্রিল্যান্সার তথ্যভাণ্ডার গড়ে উঠবে, যেখানে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা, দক্ষতা, কাজের ধরন ও বাজার প্রবণতা সংরক্ষণ এবং হালনাগাদ থাকবে।
freelancers.gov.bd প্ল্যাটফর্মের তথ্যভাণ্ডার নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোগ ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে ফ্রিল্যান্সারদের সংযোগকে আরও দৃঢ় করবে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
সরকার ৪৮টি জেলায় তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষিত যুবককে ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দিতে পরিকল্পনা করছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই প্রশিক্ষণ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে। প্রকল্পপ্রবক্তারা আশা করছেন, ১৮ হাজারের বদলে লক্ষাধিক যুবককে ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। এর পাশাপাশি সরকার ডিজিটাল উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সহায়তা বাড়াতে পদক্ষেপ নিয়েছে।
ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটির অনেকেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি স্বীকৃত আইডি কার্ড প্রাপ্তির মাধ্যমে তরুণরা পেশাগত স্বীকৃতি পাবে এবং বৈদেশিক বাজারে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




