নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর বৃহৎ আবাসিক–বাণিজ্যিক প্রকল্প পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বাণিজ্যিক প্লট নিলাম শেষ হওয়ার পর নতুন করে ভ্যাট (মূসক) সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিয়েছে—এ নিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে লিখিত চিঠি পাঠিয়েছে।
নিলামের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় ২২ আগস্ট ২০২৩-এ; আনুষ্ঠানিকভাবে নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার তথ্য সভা প্রটোকলের মাধ্যমে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩-এ নথিভুক্ত হয়।
নিলামের শর্তে তখন মূসকের হার হিসেবে ৪ শতাংশ উল্লেখ করা ছিল এবং নিলামগ্রহীতাদের ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অর্থ জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে পরে এনবিআরের নতুন প্রজ্ঞাপনে ভ্যাটহার পরিবর্তন নিলামকারী ও ক্রেতা উভয়ের ওপরই ১৫ শতাংশ ধার্য হওয়ায় পরিস্থিতি জটিলতর হয়েছিল। এই আইনি ও অতীত পর্যালোচনা বিষয় নিয়ে রাজউকের চিঠি গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন তুলেছে।
চিঠিতে রাজউক স্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছে, নিলামকারী সংস্থা ও ক্রেতা উভয় পক্ষ থেকেই আলাদাভাবে ১৫% করে ভ্যাট আদায় করা হবে কি না ?
পূর্বে যে শর্তে (৪%) নিলাম সম্পন্ন হয়েছে—তাহলে পরবর্তীতে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট নেওয়া যাবে কি না, এবং রাজউককে নিজেও কোনো আয়কর বা অন্যান্য ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে কিনা, এসব বিষয়ে দ্রুত নির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। অনিশ্চয়তা থাকার কারণে নিলামগ্রহীতা ও রাজউকের মধ্যে আর্থিক ও আইনি সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ব্যাপক পরিসরে প্লট ক্রেতারা অতিরিক্ত বোঝা ঢালতে চাইবে না, অতএব এনবিআরের দ্রুত এবং স্পষ্ট নির্দেশনা দরকার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পিছনের তারিখ থেকে কার্যকর হওয়া কোনো নিয়ম বা আদেশের ক্ষেত্রে কর আরোপ করলে, আদালত-হস্তক্ষেপ বা কর্পোরেট জটিলতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে রাজস্ব ঘাটতি ও নীতিগত সঙ্গতি তুলে ধরতে এনবিআরকে নিজের প্রজ্ঞাপনের ব্যাখ্যা দিতে হবে।
(ক) নিলামের সময় নির্ধারিত হারকে রক্ষা করে পূর্বক্রেতাদের অতিরিক্ত চার্জ না নেওয়া এবং রাজউককে করবিধির ওপর নির্দিষ্ট ছাড় প্রদান, অথবা
(খ) স্পষ্ট রেটরোঅ্যাকটিভ নির্দেশনা দিয়ে ক্রেতা ও নিলামকারী কর্তৃপক্ষের করদায়িত্ব নির্ধারণ।
সমাধান জরুরি। নিলামগ্রহীতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকায় জমা বা লেনদেন আটকে যেতে পারে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থপ্রবাহ ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্ব ভিত্তিক নগর উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কষ্ট পেতে পারে। তাই ন্যায্য ও স্বচ্ছ উপায়ে করদায়িত্ব নির্ধারণ করা হলে বাজার স্থিতিশীলতা ফিরবে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




