জাকারিয়া মিঞা, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে গরুর ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি)। এ রোগে এখানকার অধিকাংশ কৃষকের গরু আক্রান্ত হয়েছে। রোগাক্রান্ত গরুর চিকিৎসায় মোটা অংকের টাকা খরচ করতে হচ্ছে কৃষকদের। তারপরও ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রেহাই মিলছে না তাদের। দিন যতই যাচ্ছে ততই বাড়ছে আক্রান্ত ও মারা যাওয়া গরুর সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে গরু নিয়ে দিশেহারা অবস্থা কৃষকের। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, প্রায় কৃষকের বাড়িতে বাড়িতে গরু ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত। এ রোগ থেকে গরুকে বাঁচাতে অনেকেই স্থানীয় হাতুড়ে চিকিৎসক ও কবিরাজের শরণাপন্ন হচ্ছেন। প্রান্তিক কৃষকরা জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে এ রোগের প্রাদুর্ভাব ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। রোগাক্রান্ত গরু মারা যাচ্ছে। আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা চললেও দ্রুতই স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। আর এ রোগের চিকিৎসা চলমান রাখতে খরচ হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। আক্রান্ত গরুর মালিকরা জানান, এবার কমবেশি সবার গরু ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে বড়ভিটা ইউনিয়নের ঘোগারকুটি এলাকার সাইফুল ইসলাম, ফখর উদ্দিন মাস্টার, আবুল হোসেন ও আনোয়ার হোসেনের ১টি করে গরু মারা গেছে। আমরা গরু নিয়ে আতঙ্কে আছি। সরকারের পক্ষ থেকে যদি ভ্যাকসিন দিত তাহলে আমরা আমাদের গরুগুলোকে রক্ষা করতে পারতাম।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরিফুর রহমান কনক জানান, উপজেলায় খামারি ও প্রান্তিক কৃষকের মিলিয়ে গরুর সংখ্যা ৬৭ হাজার। এবছর উপজেলায় সর্বত্র ল্যাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। উপজেলায় খামারিদের তুলনায় প্রান্তিক কৃষকদের গরু ল্যাম্পি স্কিন রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। রোগাক্রান্ত পশুর সুচিকিৎসায় কালক্ষেপণ ও একেবারে চরমপর্যায়ে চিকিৎসা নিতে আসায় পশু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এজন্য মাঠ পর্যায়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। গরুর সুচিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তরে দ্রুত যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ফুলবাড়ীতে ল্যাম্পি স্কিন রোগে গরু নিয়ে দিশেহারা কৃষক
আরো খবর
Continue to the category


