মনিরুজ্জামান মনির, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে আওয়ামীলীগ নেতা তাজু ও তাজুর ছেলে উজ্জলের বিরুদ্ধে নিরীহ একটি অসহায় প্রবাসী পরিবারের উপর হামলা ও চাঁদাদাবীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যাপক তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বাদেহাড়িয়া গ্রামের তাজু সরকার তার ছেলে উজ্জ্বল সরকার একটি অসহায় প্রবাসী পরিবারের কাছে দীর্ঘদিন যাবত চাঁদাদাবী করে আসছে বলে একই গ্রামের প্রবাসী সামিউর রহমান ও তার স্ত্রী খোদেজা বেগমের অভিযোগ। খোদেজা বেগম ও তার ৭৫ বছর বয়স্ক শাশুড়িকে চাঁদার দাবিতে বেশ কয়েকবার মারধর ও লাঞ্ছিত করেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। এ বিষয়ে খোদেজা বেগম বাদী হয়ে ১৪৩/৩৪১/৩৬৪/৩৮৫/৩৮৬/৩৫৪/৩২৩/৩০৭/৫০৬/ (২) / ৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ ধারায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ২৮ আগষ্ট তারিখে ২৫ লক্ষ টাকার চাঁদা দাবী করেছে মর্মে একটি মামলা দায়ের করেন। সাংবাদিকদের কাছে খোদেজা বেগম বলেন, তাজু ও তাজুর ছেলে উজ্জ্বল আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তার বাড়িতে আওয়ামীলীগের অফিসে নিয়ে আমার স্বামী, আমার বৃদ্ধ শাশুড়িকে বেধড়ক মারপিট করে জোরপূর্বক লিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দেওয়ার কথা বললে, আমরা অসম্মতি জানালে তাজু ও তাজুর ছেলে উজ্জ্বল, তাজুর মেয়ের স্বামী মুন্না আমাদের কে মারধর করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক মানুষ জানায়, আমরা তাজুর ভয়ে মুখ খুলতে পারি না। কথা বললেই সে হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে আমাদের উপর। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ওবায়দুল মোক্তাদিরের ছত্রছায়ায় তার বাড়িতে একটি অফিস কক্ষ স্থাপন করে, যেটি তাজুর টর্চারসেল নামে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত ছিলো।
এই মামলার বাদী খোদেজা বেগম বলেন গত কিছুদিন আগে বিনা নোটিশে আমাদের কে জেলা ডিবি কার্যালয়ে ডাকিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করার চেষ্টা করা হয়। আমরা ওখান থেকে চলে আসার পর, যখন তখন তাজু আমাদের বাড়িতে উঠে বলে এই বাড়ি আমার ঐ বাড়ি বিক্রি করে আমাকে টাকা দিতে হবে। খোদেজা বেগম বলেন তাজু আমার ছোট ছেলেকে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বেশ কয়েকবার মারপিট করেছে। আমরা এই ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে, প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার এবং দুর্ধর্ষ ফ্যাসিবাদের দোসর তাজুর হাত থেকে মুক্তি পেতে চাই।



