ঢাকা  শুক্রবার, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধবিদেশে পাঠানোর নামে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে উধাও জাহাঙ্গীর

বিদেশে পাঠানোর নামে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে উধাও জাহাঙ্গীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা এবং বন্ধ অ্যাকাউন্টের চেক দিয়ে জালিয়াতি একটি গুরুতর অপরাধ। জনস্বার্থে এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গল্পে ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে বিএমইটি (BMET) আইন ও দণ্ডবিধির আলোকে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। বন্ধ অ্যাকাউন্টের চেক দিয়ে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা প্রতারক জাহাঙ্গীর। সেই জালে সর্বশান্ত ওমর ফারুক সহ ৫টি পরিবার।”

বিদেশে পাঠানোর নামে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে উধাও জাহাঙ্গীর
তথ্য সূত্রেঃ
বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ওমর ফারুক নামের এক ব্যক্তি ও তার স্বজনদের কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীর নামের এক প্রতারকের বিরুদ্ধে। শুধু টাকা আত্মসাৎই নয়, ভুক্তভোগীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ভুয়া ভিসা এবং মেঘনা ব্যাংকের একটি ‘বন্ধ’ অ্যাকাউন্টের চেক। বর্তমানে ঋণের কিস্তি আর পাওনাদারদের চাপে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ভুক্তভোগীরা।

প্রতারণার জাল যেভাবে বিস্তার হলো
অনুসন্ধানে জানা যায়, ওমর ফারুক তার কয়েকজন আপনজনকে উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পাঠানোর জন্য জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ করেন। জাহাঙ্গীর সুকৌশলে তাদের আশ্বস্ত করে কয়েক দফায় মোট ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই টাকার বড় একটি অংশ তারা চড়া সুদে ঋণ করে জোগাড় করেছিলেন।

ভুয়া ভিসা ও বন্ধ অ্যাকাউন্টের নাটক
টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও ভিসা দিতে টালবাহানা শুরু করে জাহাঙ্গীর। একপর্যায়ে চাপের মুখে পড়ে সে কয়েকটি জাল ভিসা সরবরাহ করে। একইসাথে পাওনা টাকার বিপরীতে মেঘনা ব্যাংকের পাঁচটি চেক প্রদান করে (প্রতিটি ১ লাখ টাকার)। কিন্তু ভুক্তভোগীরা ব্যাংকে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, ওই অ্যাকাউন্টটি অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, জেনেশুনেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীর অকেজো চেক প্রদান করেছে।

আইনের চোখে অপরাধ ও শাস্তির বিধান
জাহাঙ্গীরের এই কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের একাধিক ধারায় কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩। এই আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া বিদেশে লোক পাঠানো বা পাঠানোর কথা বলে টাকা নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া ধারা ৩৩ অনুযায়ী, প্রতারণামূলকভাবে বিদেশ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলে অনুর্ধ্ব ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ৫ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

চেক ডিজঅনার ও জালিয়াতিও বন্ধ অ্যাকাউন্টের চেক দেওয়া প্রতারণার সামিল। এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা অনুযায়ী, এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

দণ্ডবিধি ৪২০/৪৬৭/৪৬৮ ধারাঃজালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের জন্য এই ধারাগুলোতে জেল ও জরিমানার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি
গ্রামে সুদের টাকা আর পাওনাদারদের তাগাদায় ওমর ফারুক ও তার পরিবার এখন দিশেহারা। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং প্রতারক জাহাঙ্গীরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন। বিএমইটি এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি বৃদ্ধি না করলে এ ধরনের ‘আদম ব্যাপারী’ চক্র সাধারণ মানুষের জীবন ধ্বংস করতে থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতেঃ

ভুক্তভোগী ওমর ফারুকের উচিত দ্রুত নিকটস্থ থানায় মামলা করা এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET)-তে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা। একইসাথে চেক জালিয়াতির জন্য লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা প্রয়োজন।।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular