ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআইন ও আদালতব্লগার নিলয় হত্যার এক দশক, বিচারে দীর্ঘসূত্রতা ও নিরাপত্তা নিয়ে হতাশা স্ত্রীর

ব্লগার নিলয় হত্যার এক দশক, বিচারে দীর্ঘসূত্রতা ও নিরাপত্তা নিয়ে হতাশা স্ত্রীর

ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় হত্যা মামলায় দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তাঁর স্ত্রী আশামনি। নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত তিনি। রাজধানীর গোড়ানে ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট ভাড়া বাসায় খুন হন নিলয়। ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন এই মামলায় সাক্ষী ১৫ জন। তবে এখন পর্যন্ত মামলার বাদী নিলয়ের স্ত্রী আশামনিসহ সাক্ষ্য দিয়েছেন পাঁচজন।

গোড়ানে ১৬৭ নম্বর বাড়ির পঞ্চমতলায় বাসায় খুন হন নিলয়।‎ হত্যাকাণ্ডের দিনই আশামনি অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করে খিলগাঁও থানায় মামলা করেন। এই মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর ১৩ জনকে আসামি করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযোগপত্র দেয়। গত ১৮ জানুয়ারি ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন বলেন, মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ এখন দ্রুত হচ্ছে। গত দুই মাসেই চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলা নিষ্পত্তি হতে হয়তো সর্বোচ্চ চারটি শুনানির তারিখ লাগতে পারে। এর আগে সাক্ষী নিয়ে জটিলতায় কালক্ষেপ হয়েছে। এর মূল কারণ হলো, রাজনৈতিক জটিলতা।

এই মামলায় ২০২২ সালের আগস্ট প্রথম সাক্ষ্য দেন নিলয়ের স্ত্রী। গত জুন ও জুলাইয়ে সাক্ষ্য দেন চারজন। তারা হলেন– সামছুল কবির, সানজিদা খানম, মো. শামীম হোসেন ও পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন।

হত্যাকাণ্ডের দিন দুপুরে বাড়ি দেখার নাম করে এসেছিল ‘জঙ্গিরা’। বাড়িতে ঢুকেই কোপাতে শুরু করে নিলয়কে। মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যাওয়ার সময় বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পর আদালতে এমন বর্ণনা দেন আশামনি।

সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কৃত মেজর সৈয়দ মো. জিয়াউল হককে প্রধান আসামি করে দেওয়া হয় অভিযোগপত্র। অন্য আসামিরা হলো– মাসুম রানা, সাদ আল নাহিন, মো. কাওসার হোসেন খান, কামাল হোসেন সরদার, মাওলানা মুফতি আব্দুল গফ্ফার, মো. মর্তুজা ফয়সল সাব্বির, তারেকুল আলম ওরফে তারেক, খায়রুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে রিফাত ওরফে ফাহিম ওরফে জিসান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাহাব, মোজাম্মেল হোসেন সায়মন, মো. আরাফাত রহমান ও শেখ আব্দুল্লাহ ওরফে জুবায়ের।

মামলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আশামনি সমকালকে বলেন, আত্মরক্ষা নিয়েই তিনি সংকটে আছেন। বিচার চাইবেন কার কাছে। বিচার চাইতে চাইতে ১০ বছর পার হয়ে গেল। হত্যাকারীদের শাস্তি হোক– এটাই প্রত্যাশা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular