নিউজ ডেস্ক : আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক বিবৃতিতে ভারতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে শত শত জাতিগত বাঙালি মুসলিমকে বাংলাদেশে বহিষ্কার করেছে। এসব ব্যক্তিকে “অবৈধ অভিবাসী” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যদিও তাদের অনেকেই প্রকৃতপক্ষে ভারতের নাগরিক, বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির অধিবাসী।
এইচআরডব্লিউ বলছে, এসব বহিষ্কারের পেছনে কোনও যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাদের দাবি অনুযায়ী, ভারত সরকার এই জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে এবং মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।
বিচারবহির্ভূত বহিষ্কার ও দমন নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে এইচআরডব্লিউ-এর এশিয়া পরিচালক এলেন পিয়ারসন বলেন, “ভারতের বিজেপি সরকার বাঙালি মুসলমানদের, যাদের অনেকে ভারতের আইনসম্মত নাগরিক, তাদের নির্বিচারে বহিষ্কার করে বৈষম্যের বাতাবরণ তৈরি করছে।”
তিনি আরও বলেন যে এই কার্যক্রম শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, বরং তা আন্তর্জাতিক আইন ও ভারতীয় সংবিধানেও সাংঘর্ষিক।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আসাম, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে অনেক বাঙালি মুসলিমকে আটক করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে, ওইসব ব্যক্তিকে কোনও আনুষ্ঠানিক শুনানি বা প্রমাণপত্র প্রদর্শনের সুযোগ না দিয়েই দেশছাড়া করা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ- ভারত সরকারকে অবিলম্বে বহিষ্কার কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা বলেছে, সকল নাগরিকের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করতে হবে, যারা সন্দেহভাজন ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন, তাদের উপযুক্ত আইনি সুরক্ষা ও শুনানির সুযোগ দিতে হবে, নির্বিচারে আটক ও জোরপূর্বক বহিষ্কারের প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।
ভারত সরকারের পক্ষে অতীতে, কর্তৃপক্ষ অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে আসছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জনসংখ্যা ভারসাম্যের কথা বলেছে।
এইচআরডব্লিউ-এর প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার, জাতীয়তা এবং শরণার্থী নীতিকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এই ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : দি টাইমস্ অব ইন্ডিয়া



