ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়মডেল মসজিদ নির্মাণে ব্যয় কত ছিল তা তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মডেল মসজিদ নির্মাণে ব্যয় কত ছিল তা তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: মডেল মসজিদ নির্মাণে সমস্ত প্রকল্প ব্যয় মোট কত ছিল, কতটা মডেল মসজিদ হয়েছে, সমস্ত মসজিদ ওয়ারী সেটা তদন্ত পরিচালনা করার জন্য আজকেই মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুকের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। সোমবার সংসদে ধর্মমন্ত্রীর পক্ষে প্রশ্ন উত্তর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

জয়নাল আবেদিন ফারুক বলেন, এখন নতুন মসজিদের দরকার নাই। আগে যারা মডেল মসজিদের ব্যয় ১৩ কেটিকে ২১ কেটি করেছে, সেই বিষয়গুলো দেখেন। সব মসজিদগুলো ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। সেনবাগেরটা ঢোকা যায় না, পানি পড়ে। বিষয়গুলো আমি ধর্মমন্ত্রীর কাছে জানবো যেন, বিষয়গুলোর একটা তদন্ত করে। যারা ১৩ কে ২১ করেছে, এই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে কিনা।

এর পর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আপনি বললেন এ কারণে আমারও বলতে ইচ্ছা হচ্ছে। আপনার সেনবাগে যে অবস্থা, আমার দুর্গাপুরে তার চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা। সামনে বিরাট বড় একটা পুকুর, এর পেছনে মডেল মসজিদ। একটা ব্রিজ করে মডেল মসজিদে যেতে হবে। স্থানীয় লোকজন এটার নাম দিয়েছে তাজমহল। যেহেতু মসজিদের সামনে বিরাট বড় পুকুর, তাজমহলের দৃশ্যটা যেমন পানির সামনে বা পিছনে একটা আছে, ওইটাও ওইরকম। তাই নাম দিয়েছে দুর্গাপুরের তাজমহল। এখন এইটাতে ঢুকতে গেলে আপনার ব্রিজ করতে হবে। মসজিদ আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক, উনি অত্যন্ত প্রবীণ সংসদ সদস্য, উনার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। তিনি যেই প্রশ্নটা করেছেন, এটা সর্বক্ষেত্রেই বলা যায় প্রযোজ্য। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে অর্থ লুটপাটের বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আমি এখানে বলছি না যে, পদ্মা সেতুর মতো দুর্নীতি এখানে হয়েছে। তবে ইসলামের নামে, মসজিদের নামে তারা যা করেছে, সেটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। মডেল মসজিদ অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এই মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রকল্প ব্যয়, প্রাক্কলন সেটা যথাযথ হয়েছে কিনা এটা একটা খুবই যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন। ১৩ কোটি ব্যয় ২১ কোটিতে বৃদ্ধি হয়েছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সাহেবের যে হোয়াইট পেপারটা প্রকাশিত হয়েছে, আমি কয়েকদিন আগেও বাজেট স্পিচে বলেছি, তাতে এরকম মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতির জন্য মেগা বাজেট করা হয়েছে। এবং সেটা সময় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ৫ বছর থেকে ৭ বছরও সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর প্রাক্কলিত ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। দুর্নীতি করার জন্য প্রাক্কলনের মধ্যেই আগে ঢুকেছে। তারপরে দুর্নীতি হয়েছে, সময় বৃদ্ধি হয়েছে, ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে, তার উপর। এখন ১৩ কোটি থেকে ২১ কোটিতে কিভাবে গেলো, এই মডেল মসজিদগুলোর সমস্ত প্রকল্প ব্যয় টোটাল কত ছিল, কতটা নম্বর অব মডেল মসজিদ হয়েছে, সমস্ত মসজিদ ওয়ারী সেটা তদন্ত পরিচালনা করার জন্য আমি আজকে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেব। এর মধ্যে সরকারি অন্যান্য সংস্থাও জড়িত হতে পারে। সেটা খুবই ন্যায্য প্রশ্ন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular