ঢাকা  রবিবার, ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeশিক্ষামতলব উত্তরে কালবৈশাখীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, অন্ধকারে এসএসসি পরীক্ষা

মতলব উত্তরে কালবৈশাখীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, অন্ধকারে এসএসসি পরীক্ষা

মোমবাতি-চার্জার লাইটের আলোয় পরীক্ষা দিল শত শত শিক্ষার্থী

নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের মূল লাইনের ওপর পড়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ে চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায়। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে মোমবাতি ও চার্জার লাইটের আলোয় পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন শত শত পরীক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার সময় উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় শ্রেণিকক্ষগুলোতে পর্যাপ্ত আলো ছিল না। এর ওপর বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান বন্ধ হয়ে গুমোট ও অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়, যা পরীক্ষার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অনেক কেন্দ্রে দেখা গেছে, অন্ধকার ও গরমে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র পড়তে হিমশিম খাচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা জানান, এমন পরিবেশে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল, যা পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা গেছে। এক অভিভাবক বলেন, “পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকাটা দায়িত্বশীলতার ঘাটতি। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চিন্তিত।”

ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব বেনজুর আহমেদ মুন্সী জানান, তারা আগেই কিছু এলইডি লাইটের ব্যবস্থা করেছিলেন, ফলে তুলনামূলকভাবে পরীক্ষার্থীরা ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পেরেছে।

নিশ্চিন্তপুর স্কুল কেন্দ্রের সচিব মো. আরিফুল্ল্যা বলেন, “কক্ষগুলো অন্ধকার হয়ে গেলে দ্রুত শতাধিক মোমবাতির ব্যবস্থা করা হয়, যাতে পরীক্ষা ব্যাহত না হয়।”

দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজীব চন্দ্র জানান, মোমবাতি ও চার্জার লাইটের ব্যবস্থা করা হলেও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (মতলব উত্তর জোনাল অফিস) সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় মেরামত কাজে সময় লাগছে। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, “আমরা সব কেন্দ্র সচিবকে নির্দেশনা দিয়েছি যেন পরীক্ষা কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। যেখানে বিদ্যুৎ নেই, সেখানে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে হলেও পরীক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular