“ও আমার দরদী, আগে জানলে তোর ভাঙ্গা নায়ে আর চড়তাম না…”
“দয়াল মুর্শিদের বাজারে, কেহ করে বেচাকেনা…”
“ধন্য বলি তারে, আপন দেশে বসে যেজন চিনতে পারে আপনারে…”
বাংলার মাটির গন্ধমাখা এই অমর গানগুলোর স্রষ্টা—লোকসঙ্গীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, মরমী সাধক জালাল উদ্দিন খাঁ (২৫ এপ্রিল ১৮৯৪ – ৩১ জুলাই ১৯৭২)।
নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার আসদহাটি গ্রামে ১৮৯৪ সালে ২৫ এপ্রিল তিনি মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। অবশ্য পরে তিনি একই উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের সিংহেরগাঁও গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
জালাল উদ্দিন খাঁর শৈশবকাল আসদহাটি গ্রামেই অতিবাহিত হয় । সেখানেই তিনি গ্রাম্য পাঠশালায় হাতে খড়ি নেন । তিনি দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন ।
পিতা সদর উদ্দিন খাঁ নিজেও একজন কবি ছিলেন। পিতার কাছ থেকেই তিনি কবিতা ও গানের প্রতি আকর্ষণ অনেকটা পেয়েছিলেন। স্কুলে পড়ার সময় তাঁর কাব্যপ্রতিভার উন্মেষ ঘটে। তখনই তিনি মুখে মুখে গান বেঁধে তা গাইতেন। তবে গান ও তত্ত্বের চর্চায় তিনি পুরোপুরি নিজেকে নিবেদন করেন ১৯২২ সালে পত্নী ইয়াকুতুন্নেসার আকস্মিক মৃত্যুর পর।
স্ত্রীর মৃত্যুর পর হইতেই সংসারের প্রতি উনার বৈরাগ্য ভাবের সৃষ্টি হয়। অতঃপর তিনি বিভিন্ন অলি-আওলিয়াদের মাজারে পরিভ্রমণ করেন ও বহু ফকির-দরবেশ, সাধু-সন্যাসীর সংস্পর্শ লাভ করেন।
জালাল খাঁ প্রত্যক্ষ প্রেরণা পেয়েছিলেন এ অঞ্চলেরই আরেকজন প্রখ্যাত বাউল সাধক মালজোড়া গানের স্রষ্টা রশিদ উদ্দিন সাহেবের এর কাছ থেকে। জালাল খাঁর চেয়ে রশিদ উদ্দিন বছর পাঁচেকের বড় ছিলেন। কবি রশিদ উদ্দিনের বাড়ি ছিল নেত্রকোনা শহরের পাশের গ্রাম বাহিরচাপড়ায়। এই বাহিরচাপড়ায় রশিদ উদ্দিনের বাড়িতে থেকে জালাল খাঁ কিছুদিন নেত্রকোনা দত্ত হাইস্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। সেই সময়ে জালাল খাঁ রশিদ উদ্দিনের সান্নিধ্যে আসেন।




