নিজস্ব প্রতিবেদক : মাদক ব্যবসায়ীরা যেন আইনের ফাঁকফোকর গলে বেরিয়ে যেতে না পারে, এজন্য দেশে বিদ্যমান আইনের সংস্কার জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আইন আছে, আইনের প্রয়োজনও আছে, কিন্তু সঠিকভাবে বিচার হয় না। সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক বিচারের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী এবং তাদের পেছনের শক্তিগুলিকে বিচারের আওতায় আনতে হলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং প্রয়োজনে সংশোধন আবশ্যক।”
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন ২০২৫) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ‘আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস’ উপলক্ষে ধানমন্ডি থানা যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত র্যালি ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্যদের মাঝেও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ দেখা যায়। তাই যারা মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত, তাদের সবার বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তকারী সংস্থা, সোর্স এবং জনগণ সবাইকে সচেতন হতে হবে যেন কেউ আইনের ফাঁক গলে পালাতে না পারে।”
ব্যারিস্টার অসীম সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যারা মাদক সংশ্লিষ্টদের সম্পর্কে জানেন, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিন। সরকারকে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্য সেল চালু করতে হবে, যেখানে তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। কারণ মাদক চক্র যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন তারা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, এমনকি খুনাখুনিও করে থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানেন কারা মাদক সেবন করে, কারা সরবরাহ করে, কারা ব্যবসা চালায়। তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অভিভাবকদেরও সচেতন থাকতে হবে, সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে এসব খোঁজ রাখতে হবে। পারিবারিক নজরদারি থাকলে মাদক প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।”
রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গ টেনে ব্যারিস্টার অসীম বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩-১৪ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তারা মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ করানোর সঙ্গে জড়িত। রোহিঙ্গারা এবং বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার কিছু চোরাকারবারি মিলে মাদক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে। এর ফলে যুব সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে এবং সমাজে অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “বেকারত্বও একটি বড় সমস্যা। তরুণরা লেখাপড়া শেষ করেও চাকরি পায় না, হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং নেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ঢাকায় খেলার মাঠ নেই, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই—এসব কারণে তরুণরা সৃষ্টিশীলতার বিকল্প হিসেবে মাদককে বেছে নিচ্ছে।”
বাংলাদেশের অবকাঠামো ও সামাজিক কাঠামো সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “যদি আমরা সমাজের সামগ্রিক পরিবর্তন না করি, তবে এই মাদক নামক অভিশাপ আগামী প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেবে।”
সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে ব্যারিস্টার অসীম বলেন, “মিয়ানমার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রৌমারীসহ ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো দিয়ে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা ইত্যাদি প্রবেশ করে। এসব সীমান্তে নজরদারি ও কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সরকার ও প্রশাসনের উচিত এসব এলাকায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করা।”
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, যুবদলের নেতা মনির, ছোটন, আব্দুল্লাহ, ফারুক, বিএনপি নেতা আবু নাসের, শ্রমিক দলের সাজাহান মাঝি, মিন্টু প্রমুখসহ যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।



