নিউজ ডেস্ক: বিগত সরকারের আমলের মতো ঢালাওভাবে মেগা প্রকল্প নিয়ে জনবিত্তের অপচয় আর করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, “৫৩ বছরের অবকাঠামো নির্মাণের যে রাষ্ট্রীয় প্র্যাকটিস, সেটি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই।”
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ প্রকল্পের স্টেকহোল্ডার কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সড়কমন্ত্রী বলেন, “আমরা এমনভাবে অর্থ ব্যয় করতে চাই যাতে অপচয় না হয় এবং জনগণ সুফল পায়। সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন না করলে তা অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বড় প্রকল্পের নামে দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্নীতির যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা পরিবর্তনের জন্য এখন কঠোর প্রতিজ্ঞা (কমিটমেন্ট) দরকার।”
প্রস্তাবিত ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েটি হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে আটিবাজার ও আবদুল্লাহপুর হয়ে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের হালনাগাদ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহরের যানজট প্রায় অর্ধেক কমে যাবে এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে।
তবে প্রকল্পের অতীত অভিজ্ঞতার সমালোচনা করে শেখ রবিউল আলম বলেন, “ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ঢাকা-সিলেট হাইওয়েতে আমাদের অনেক টাকা অপচয় হয়েছে। সঠিক সময়ে জমি অধিগ্রহণ না করায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়ে। আমরা আগের মতো ভুল করতে চাই না।”
একই কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, “বড় প্রকল্প মানেই বড় দুর্নীতি-জনমনে গেঁথে যাওয়া এই ধারণা আমরা ভেঙে দিতে চাই। আগের প্রকল্পগুলো জন্ম থেকেই বিতর্ক তৈরি করেছে। আমরা চাই এবারের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যেন পুরোপুরি বিতর্কহীন হয়।”
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার অভ্যন্তরীণ যানজট নিরসনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও গতি আসবে বলে কর্মশালায় জানানো হয়। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রকল্পটির অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও নকশা হালনাগাদ করেছে ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি)।
সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রকল্পের কারিগরি দিক তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক কাজী মো. ফেরদাউস। এতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




