কবি পারমিতা ভৌমিকের কবিতা
যদি বল, আমি বইতে পারি
নিঃসঙ্গ তোমার ব্যথা
অস্তিত্বের প্রত্যেক শিকড়ে
যদি বল, আমিই ঠোঁটে করে তুলে নেব
যন্ত্রণার কঠিন শায়ক
অমৃতের প্রত্যন্ত গভীরে
■■
কবি পারমিতা ভৌমিকের কবিতা আলোচনা করেন চিত্তরঞ্জন ভট্টাচার্য
“অপার্থিব।ক্ল্যাসিক!——
মৈত্রেয়ী-সম্ভব বচনমালা একটি অসাধারণ সূক্তি।
অস্তিত্বের গভীরে যে অন্তরাত্মা,সে চেতনাচৈতন্যের
দীক্ষায় অমৃতসন্ধানী,সেই পারে অন্যের যন্ত্রণাকে
ঠাঁই দিতে নিজস্ব প্রদ্যুম্নসত্তায় । তখন বেদনার ভার
নি:সঙ্গ থাকে না আর ,এক অনন্য চৈতন্যসঙ্গে যুক্ত হয়ে সুখময়তা লাভ করে।
দার্শনিকতা শুধু নয় এ হলো জীবনবেদ।
কবিতায় যিনি উদ্দিষ্ট, তিনি প্রেমিক হতে পারেন,
ঈশ্বর হতে পারেন,হতে পারেন দুঃখকাতর নিঃসঙ্গ
কোনো রাখালসাধক,—যেই হোন না কেন- কবির
মৈত্রেয়ী মন মরমিয়া আবেশে তাঁর দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে অতলান্ত ভগবতী ভালোবাসার পরশমণি।।
কবিতাটির মর্ম বহুবর্ণবিস্তারী।সেখানে বিচ্ছুরিত হতে পারে ভক্ত ভগবানের সম্পর্ক,দ্যোতিত হতে পারে
প্রেমিক প্রেমিকার সম্বন্ধরহস্য,বা আরো অন্য কিছু।
সে যাই হোক,একান্ত লৌকিক ভাবনায় আমার কাছে
কবিতাটি মানুষী ভালোবাসার নিত্যশোভাময় এক অসাধারণ পটচিত্র ,যেখানে বেদনাও সহমর্মিতায়
অমৃতের রঙ মেখে দোল খায়।।
“যদি একবার বল”–অন্তিম এই লাইনটি কিছুতেই আর
শেষ হতে চায় না,বারবার যেন ফিরে ফিরে আসে
ধ্রুবপদের মতো।”



