ঢাকা  বুধবার, ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়যাচাই শেষ ৩ লাখ ৫৪ হাজার জনের, তবুও শুরু হচ্ছে না রোহিঙ্গা...

যাচাই শেষ ৩ লাখ ৫৪ হাজার জনের, তবুও শুরু হচ্ছে না রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

নিউজ ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তবে এ সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমারের কাছে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১ জনের তথ্য যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৪ জনকে মিয়ানমার তাদের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

তিনি অতীতের সফল প্রত্যাবাসনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৮ সালে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গাকে এবং ১৯৯২ সালে প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ড. খলিলুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো এ ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনকে একমাত্র টেকসই সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হয়।

এছাড়া ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে আয়োজিত এক সংলাপে কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ সংস্থা এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে তাদের মতামত দেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলাটি বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ২০২৬ সালের ১২ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এ মামলার মূল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামলার ব্যয় নির্বাহে গাম্বিয়াকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে বাংলাদেশ।

তিনি আরও জানান, জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনেও রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। পাশাপাশি ওআইসির আসন্ন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে দুটি পৃথক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার আশা রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র কার্যকর সমাধান।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular