নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং এর পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে চাপে পড়েছেন ট্রাম্প ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি।
জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, মূল্যবৃদ্ধির জন্য অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের নীতিকেই দায়ী করেন। ফলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।
সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব থাকে। পররাষ্ট্রনীতি সেখানে খুব কমই নির্ধারক হয়ে ওঠে। তবে এবার ইরান যুদ্ধ ও বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের প্রভাবে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় পররাষ্ট্রনীতিও সরাসরি ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, ৭৮ শতাংশ মার্কিন মনে করেন, তাদের আয়ের তুলনায় দ্রব্যমূল্য বেশি বৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের নীতিই দায়ী। জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় ট্রাম্পও পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সম্পর্কটি বিবেচনায় নিচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আলাস্কার নির্বাচন নিয়ে বিচার বিভাগের মামলা: এদিকে আলাস্কায় সিনেট নির্বাচনের ফল নিয়ে আগাম আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই নামের দুই প্রার্থীর কারণে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, এমন যুক্তিতে অঙ্গরাজ্যটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। মামলায় নির্বাচনে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান এস সুলিভান অল্প ব্যবধানে হারলে ফলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আটকে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
কানাডার কিছু পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার: নির্বাচনের আগে নিজ দলের প্রার্থীকে সুবিধা দিতে ট্রাম্প কানাডার কিছু পণ্যের ওপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করেছেন। মেইন অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের জয় কঠিন হয়ে ওঠায় এ সিদ্ধান্ত এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা: জনমত জরিপে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনাই বেশি দেখা যাচ্ছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। রিপাবলিকানরা কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেও ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে তাঁর নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।



