নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা : কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) বলেছেন, যেখানে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত, সেখানেই উন্নয়নের ক্ষেত্র তৈরি হয়। তাই কর্মসংস্থান বাড়াতে ও শিল্পায়ন এগিয়ে নিতে সড়ক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে ‘চান্দিনা–দেবিদ্বার জেলা মহাসড়ক (জেড-১০০৮) প্রশস্তকরণ’ বিষয়ে স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য বলেন, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হলে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেবিদ্বার–চান্দিনা সড়কটি ৩০ ফুট প্রশস্ত করা গেলে এ অঞ্চলে শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি হবে। এতে মুরাদনগর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ আশপাশের এলাকার যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করবে এবং যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে।
তিনি বলেন, সড়কটির পাশে থাকা পাঁচটি ইউনিয়নে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক উদ্যোক্তা নিজ এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়তে আগ্রহী হলেও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। সড়ক উন্নয়ন হলে জমির মূল্য বাড়বে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে।
এমপি হাসনাত জানান, সড়কটি ৮ দশমিক ৫ মিটার প্রশস্ত করার প্রস্তাব থাকলেও তিনি তা ৯ দশমিক ১৪ মিটার (৩০ ফুট) করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সড়কের ২২টি বাঁক সোজা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। এতে ঢাকার সঙ্গে এ অঞ্চলের যোগাযোগ আরও উন্নত হবে বলে তিনি মনে করেন।
মাদকবিরোধী কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে অভিযান চালালে কিছু মানুষ জীবিকার অজুহাত তুলে প্রতিবাদ করে। তবে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের কোনো সুযোগ নেই। গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় দেবিদ্বারের ইটভাটার বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলায় ২৪টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ৮টির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। অবৈধ ১৬টি ইটভাটা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। ইতিমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে এবং পরিবেশ রক্ষায় এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এবং উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইদুল রহমান, প্রকৌশলী সাঈদ হাসান সিকদার এবং রোড ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম গাফ্ফার খান।
সভায় প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে বড় পর্দায় সড়কের নকশা উপস্থাপন করা হয়। এতে ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির ৬০টি বাঁকের মধ্যে ২২টি বাঁক সোজা করার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন কারিগরি দিক তুলে ধরা হয়।




