ঢাকা  বুধবার, ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিনীতিমালার আওতায় ঢাকায় চলবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা

নীতিমালার আওতায় ঢাকায় চলবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা

নিউজ ডেস্ক: রাজধানী ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এসব অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের খনন ও উন্নয়নকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়কে অটোরিকশা যেভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচল করছে, তা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন। নগরীর সড়ক ব্যবস্থাপনা কার্যকর রাখতে এসব যানবাহনের চলাচলকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, অটোরিকশা চালকদের জীবিকার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। অনেক চালক দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। ফলে নতুন ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের জীবিকার ওপর যাতে অযাচিত চাপ না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই নীতিমালা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘একটি নীতিমালার আলোকে, একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা এটা করতে চাই, কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়।’ তবে কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা অকার্যকর হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের এ উদ্যোগ এমন সময়ে এলো, যখন রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদে চালক ও মালিকদের আন্দোলন হয়েছে। সম্প্রতি তারা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চালকদের বৈধ লাইসেন্স এবং রোড পারমিট দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মালিকদের যানবাহন যাচাই করে বৈধতার সুযোগ দেওয়ার দাবিও উঠেছে।

এর আগে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ ও ডাম্পিংয়ের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন এবং বিভিন্ন এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে চার্জিং পয়েন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিরুদ্ধেও আপত্তি জানানো হয়।

এদিকে একই অনুষ্ঠানে ধানমন্ডি লেকের খনন ও উন্নয়নকাজ নিয়েও বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও তার নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে লেকের পলি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ঘনমিটার পলি অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ঘনমিটার পলি অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

ধানমন্ডি লেকের সার্বিক উন্নয়নে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত নকশার ভিত্তিতে লেকের পরিবেশ, অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধার উন্নয়ন করা হবে। পরিকল্পনার মধ্যে লাইব্রেরি, জিম, ক্যাফে ও নজরুল মঞ্চসহ বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করার বিষয় রয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াকওয়ে নতুনভাবে সাজানো, সবুজায়ন এবং নগরবাসীর অবসর ও বিনোদনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নকাজের মধ্যে লেকের তলদেশ পরিষ্কার, পানি শোধন, পাড় সুরক্ষা, ওয়াকওয়ে সংস্কার ও সম্প্রসারণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং আলোকসজ্জার কাজও রয়েছে। লেককেন্দ্রিক নাগরিক সুবিধা বাড়াতে জিম, ক্যাফেটেরিয়া, ভাসমান ডেক, কিয়স্ক, উন্মুক্ত ব্যায়ামাগারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, লেকের পলি অপসারণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ শেষ করতে প্রায় আড়াই বছর সময় রাখা হয়েছে। তবে শুধু উন্নয়নকাজ করলেই হবে না, দীর্ঘমেয়াদে লেকের পরিবেশ ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও জরুরি।

একই সঙ্গে নাগরিকদের প্রতি লেকে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, একটি জলাধারকে সুন্দর ও ব্যবহার উপযোগী করে তোলা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি সেই পরিবেশ রক্ষা করা নাগরিকদেরও দায়িত্ব।-

সব মিলিয়ে ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ে সরকারের অবস্থান এখন একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার দিকে এগোচ্ছে। তবে নীতিমালার চূড়ান্ত কাঠামো, কোন কোন সড়কে এসব যান চলবে, কী ধরনের অনুমতি বা লাইসেন্স প্রয়োজন হবে এবং চালক-মালিকদের জন্য কী বিধান থাকবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ফলে নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পরই ঢাকার অটোরিকশা চলাচলের নতুন কাঠামো সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular