ক্রীড়া ডেস্ক: পর্তুগাল জাতীয় দলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কোচ হোর্হে জেসুস দায়িত্বে থাকলে নাকি আর জাতীয় দলে ফিরতে চান না ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা।
পর্তুগিজ সাংবাদিক রুই সান্তোসের দাবি, জেসুস দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলতে অনাগ্রহী রোনালদো।
গত রবিবার রোনালদোর জন্য জাতীয় দলের দরজা খোলা রাখার বার্তা দিয়েছেন জেসুস। তিনি জানিয়েছিলেন, আগামী আন্তর্জাতিক বিরতিতে রোনালদোকে স্বাগত জানানো হবে। এর আগে চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে দল ছেড়ে চলে যাওয়ায় রোনালদোকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল উত্তেজনা।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর নরওয়ের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন জেসুস। পর্তুগালের হয়ে ১৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো পুরো ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকতে হয় তাকে।
এতেই ক্ষুব্ধ হন পর্তুগিজ তারকা। এরপর দলের তিনটি অনুশীলনেও অংশ নেননি রোনালদো। আন্তর্জাতিক বিরতির শেষ দুটি ম্যাচের আগেই দলীয় ক্যাম্প ছেড়ে ব্যক্তিগত বিমানে করে চলে যান তিনি।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছিল। জেসুসের পাশাপাশি পর্তুগালের একাধিক খেলোয়াড় রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরার ব্যাপারে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছিলেন।
কিন্তু এর মধ্যেই নতুন দাবি সামনে আনলেন সাংবাদিক রুই সান্তোস। সিএনএন পর্তুগালকে সান্তোস বলেন, ‘তিনি (রোনালদো) নাকি জানিয়েছেন, অন্তত জর্জে জেসুস জাতীয় দলের কোচ থাকাকালীন তিনি আর জাতীয় দলে ফিরবেন না।’
সান্তোস বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াটি যেভাবে সামলানো হয়েছে, তাতে সে মোটেও সন্তুষ্ট নয়। বিশেষ করে প্রধান কোচ জর্জে জেসুসের বক্তব্যের বিষয়বস্তুতে সে ভীষণ ক্ষুব্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানোকে ফিরিয়ে এনে নেশন্স লিগে খেলানোর ইচ্ছার কথা বলা হচ্ছে, আবার একই সময়ে বলা হচ্ছে- কেউ কারও কাছে ক্ষমা চাইবে না, আমিই দল নির্বাচন করি। এটা মূলত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়। বর্ণনাটা ছিল ক্রিশ্চিয়ানোকে অন্তর্ভুক্ত করার, বাদ দেওয়ার নয়। কিন্তু সেটি কাজ করেনি।’
রোনালদোর অবস্থান পর্তুগালকে বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে। একদিকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে সন্তুষ্ট রাখতে চায় ফেডারেশন, অন্যদিকে বয়স ৪১ হওয়ায় রোনালদোকে দলের জন্য বোঝা হিসেবে দেখার প্রবণতাও বাড়ছে।
আবার জেসুসের কোচিং ক্যারিয়ারও তার অবস্থানকে শক্তিশালী করছে। ২৫টি শিরোপা জেতা এই কোচের ক্যারিয়ারে জয়ের হার স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের চেয়েও বেশি। জুলাইয়ে চার বছরের চুক্তিতে পর্তুগালের দায়িত্ব নেওয়ার পর চার ম্যাচেই জয় পেয়েছেন তিনি।
নরওয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে রোনালদোকে একাদশের বাইরে রাখার সিদ্ধান্তও পরে সঠিক প্রমাণিত হয়। সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জেতে পর্তুগাল। এরপর রোনালদো ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার পরও ডেনমার্ক ও নরওয়ের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় দলটি।
তবে দল ছাড়ার ঘটনায় শাস্তির ঝুঁকিতেও রয়েছেন রোনালদো। তার আচরণের কারণে পর্তুগালের হয়ে ছয় মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন তিনি। এর মধ্যেই একদিন ‘পুরো সত্য’ প্রকাশ করবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।
সার্বিক পরিস্থিতিতে জেসুসের সবশেষ ভাষ্য ছিল, ‘আমার দিক থেকে সবকিছুই খোলা আছে। নিজের জীবন কীভাবে চালাবে, সেটা ক্রিসের সিদ্ধান্ত। পরবর্তী দলে ডাক পাওয়ার সময় সে যদি খেলতে থাকে এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চায়, তাহলে কেন নয়?’ রোনালদোর সঙ্গে কোনো ক্ষোভ নেই বলেও জানান জেসুস। তার ভাষায়, ‘ক্ষোভ? কিছুই নেই, এটা ছিল ভুল বোঝাবুঝি। আমার মতে, বিষয়টি সহজেই সমাধান করা যায়।’
জেসুসের মতে, রোনালদো নিজেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। ‘ক্রিস যদি চায় এবং আল-নাসরের হয়ে খেলতে থাকে, তাহলে সে পরবর্তী দলে থাকবে। আমরা এই দল ঘোষণার আগে কথা বলেছি, পরবর্তী দল ঘোষণার আগেও কথা বলতে পারি। সিদ্ধান্তটা ক্রিসের।’
তবে রোনালদোর নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট, বিষয়টি তার কাছে এতটা সহজ নয়। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, কোচ জেসুসের সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের পর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলেই ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রোনালদো বলেন, ‘যথাসময়ে আমি সব পর্তুগিজ মানুষকে জাতীয় দল থেকে আমার চলে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে সত্য জানাব। জাতীয় দলের জন্য আমি সবসময় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। এখন পর্তুগাল এবং আমার সব সতীর্থকে শুভকামনা জানানোর সময়।’




