ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশরামগতি-কমলনগরে ৭০ অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবি দুই সংসদ সদস্যের

রামগতি-কমলনগরে ৭০ অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবি দুই সংসদ সদস্যের

কৃষিজমি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় পরিবেশমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় প্রায় ৭০টি অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন দুই সংসদ সদস্য। কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটা, বায়ুদূষণ, নিষিদ্ধ জ্বালানির ব্যবহার এবং অতিরিক্ত ভারবাহী যানবাহনের কারণে স্থানীয় সড়কের ক্ষয়ক্ষতি বন্ধে তাঁরা জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে পৃথক চিঠি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) চিঠি দুটি সংসদীয় আসনের নাগরিকদের জন্য প্রকাশ করা হয়।

চিঠিতে দুই সংসদ সদস্য অবৈধ ইটভাটার তালিকা তৈরি, সরেজমিন তদন্ত, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও আইনগত অনুমোদন যাচাই এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অননুমোদিত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, নিষিদ্ধ জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

কৃষিজমির উর্বরতা কমছে

পরিবেশমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান উল্লেখ করেন, রামগতি ও কমলনগরের অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। কৃষিজমি এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা, খাদ্য উৎপাদন ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি আইন ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরিতে ব্যবহার করছেন।

এতে জমির উর্বরতা ও উৎপাদনক্ষমতা কমছে এবং কৃষকেরা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

নিজান আরও বলেন, অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়া, ধুলাবালি ও অন্যান্য দূষণকারী উপাদান বায়ুদূষণ বাড়াচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্য, স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে কৃষি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ুসহিষ্ণু উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক

চিঠিতে ভারী যানবাহনের কারণে গ্রামীণ সড়কের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও তুলে ধরেন সংসদের হুইপ। কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়া এবং তৈরি ইট পরিবহনে অতিরিক্ত মালামালবোঝাই ট্রাক্টর-ট্রলি, ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহন ব্যবহারের ফলে সড়কে ভাঙন, খানাখন্দ ও গর্ত তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে সরকারি ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে ধুলাবালি, শব্দদূষণ ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশু ও বয়স্করা

অন্যদিকে, সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন তাঁর চিঠিতে প্রায় ৭০টি অবৈধ ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও ক্ষতিকর বায়ুদূষকের কারণে স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

চিঠিতে বলা হয়, গর্ভবতী নারী, নবজাতক, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বায়ুদূষণের কারণে বিশেষভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। ইটভাটার ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে ফলজ গাছের ফুল, কচি ফল ও পরিপক্ব ফল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ইট তৈরিতে ব্যবহার এবং জ্বালানি হিসেবে গাছ ও কাঠ পোড়ানোর কারণে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়।

বীথিকা বিনতে হোসাইন অবৈধ ইটভাটায় ব্যবহৃত বিদ্যুৎ সংযোগ যাচাই করে অননুমোদিত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি মাটি ও ইট পরিবহনে ট্রাক্টর-ট্রলির অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধ, অতিরিক্ত ভারবাহী যান নিয়ন্ত্রণ, নিষিদ্ধ জ্বালানির ব্যবহার প্রতিরোধ এবং দূষণের প্রভাব নিরূপণে পরিবেশগত পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আগেও হয়েছে মামলা

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, রামগতি ও কমলনগরে অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবিতে ২০২৪ সালে উচ্চ আদালতে একটি মামলা করা হয়। একই বিষয়ে ২০২৬ সালেও উচ্চ আদালতে আরেকটি মামলা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মামলা ও স্থানীয় প্রতিরোধ সত্ত্বেও অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করা যায়নি।

দুই সংসদ সদস্যই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পরিবেশমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের চিঠির অনুলিপি পরিবেশ অধিদপ্তর, লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এবং রামগতি ও কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বীথিকা বিনতে হোসাইনের চিঠির অনুলিপি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular