নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর (রায়পুর) : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় একটি গরু বাজারের ইজারা দরপত্র আহ্বানের পর তা স্থগিত করে খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে এ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অতিরিক্ত হাসিল আদায় এবং সরকারি কোষাগারে টাকা জমা না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে স্থানীয়ভাবে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের বাহার আলী মোল্লারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইজারা কার্যক্রম স্থগিতের পর উপজেলা প্রশাসন বাজার পরিচালনার দায়িত্ব দেয় ভূমি অফিসের তহসিলদারকে। এরপর খাস আদায়ের নামে রশিদ ব্যবহার করে হাসিল আদায় করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে বাজার বসিয়ে অতিরিক্ত হারে টাকা আদায় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে একাধিক বাজার চালু থাকলেও আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, সাবেক ইজারাদার হারুনুর রশিদ হাওলাদারের মাধ্যমে হাসিল উত্তোলন করা হচ্ছে। বাজারের জায়গাটিও তাঁর মালিকানাধীন বলে দাবি করা হয়। এতে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ লোপাটের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, প্রতি হাটে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা হাসিল আদায় হয়।
শনিবার (২ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোল্লারহাটে গরু বাজারে হারুনুর রশিদ হাওলাদারের জমিতে বাজার বসানো হয়েছে। সেখানে তাঁর লোকজন টেবিল বসিয়ে হাসিল আদায় করছেন। পাশে চরবংশী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একজন অফিস সহায়ক উপস্থিত ছিলেন।
ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিটি গরুর জন্য প্রায় ২ হাজার টাকা এবং ছাগলের জন্য প্রায় ৫০০ টাকা হাসিল দিতে হচ্ছে, যা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে তাঁদের অভিযোগ।
অন্যদিকে, নীতিমালা অনুযায়ী রশিদে ভূমির বিবরণ, খতিয়ান, দাগ নম্বর, সেলামির পরিমাণ ও সময়কাল উল্লেখ থাকার কথা থাকলেও ব্যবহৃত রশিদে এসব তথ্য অনুপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার কোনো মন্তব্য না করে ক্ষিপ্ত হন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
ইজারায় সর্বোচ্চ দরদাতা মনোনীত মনির হোসেন বলেন, “৯ মার্চ দরপত্র খোলা হয় এবং আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হই। পরে ২২ এপ্রিল আমাকে জানানো হয় ইজারা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।”
অন্যদিকে, হারুনুর রশিদ হাওলাদার বলেন, “আমার মালিকানাধীন জমিতে বাজার চলছে। প্রশাসন আমাকে ভাড়া দেবে। এখনো ভাড়ার পরিমাণ নির্ধারণ হয়নি।”
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাওছার বলেন, দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইজারা স্থগিত করা হয় এবং খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “কত টাকা আদায় হচ্ছে বা কীভাবে হাসিল আদায় করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। তহসিলদার রশিদ ছাপিয়েছেন। কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করা হবে।”
প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য মোল্লারহাট গরু বাজারের (ওয়াকফ ও আদালত নির্ধারিত জমি ব্যতীত) ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। বাজারের ইজারামূল্য ৬৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এতে তিনজন দরপত্র দাখিল করেন বলে জানা গেছে।



