নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তির চাপ বেড়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৭৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালেই ভর্তি আছেন ৫৮ জন রোগী। শয্যা সংকটে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় তিন মাসে সদরসহ পাঁচটি সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪১১ জন রোগী ভর্তি হন। এর মধ্যে ৩৩৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ১৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে রামগঞ্জ উপজেলায় হামে আক্রান্ত এক শিশু ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
বর্তমানে ভর্তি থাকা ৭৩ জন রোগীর মধ্যে সদর হাসপাতালে ৫৮ জন, কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন, রায়পুরে ৭ জন এবং রামগতিতে ২ জন চিকিৎসাধীন আছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি।
১০০ শয্যার সদর হাসপাতালে সাধারণত প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। এর মধ্যে হামের মতো সংক্রামক রোগের রোগী একসঙ্গে ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালটির সক্ষমতার ওপর চাপ বেড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে করিডোর ও খোলা জায়গায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, শয্যা সংকট ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চিকিৎসা নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সাধারণত শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। জ্বর, শরীরে র্যাশ, কাশি ও বমিভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোরশেদ আলম হিরু বলেন, ‘বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অবস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল। আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। সঠিক চিকিৎসা ও যত্নে তারা সুস্থ হয়ে উঠছে।’
১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল বলেন, ‘হাম প্রতিরোধে টিকাদান সবচেয়ে কার্যকর। সময়মতো টিকা দেওয়া ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হাসান শহীন জানান, সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ৭৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।



