ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeলিডলাকসামে অবৈধ যানবাহনে ৭০ ভাগই মোটর সাইকেল

লাকসামে অবৈধ যানবাহনে ৭০ ভাগই মোটর সাইকেল

মশিউর রহমান সেলিম, লাকসাম, কুমিল্লা: কুমিল্লা দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তর লাকসাম উপজেলা শহর ও গ্রামের পাকা সড়ক ও অলি-গলি দিয়ে প্রতিদিন সাঁইসাঁই করে ছুটে চলেছে শত শত মোটর সাইকেল। যার বেশির ভাগই অবৈধ এবং এদের কোন কাগজপত্র
নেই। সরকারী বিধি-বিধান মানতে চায় না কেহই। অথচ এসব লাইসেন্সবিহীন ও চোরাই মোটর সাইকেলে সয়লাব হয়ে গেছে সমগ্র এলাকা। এ অঞ্চলের অলিগলিতে নিবন্ধন ছাড়াই ৯০ ভাগ মোটর সাইকেল চলছে। এতে জন যাতায়াতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষকে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলাগুলোর অলিগলি এবং সড়ক পথে ব্যাপকহারে চোরাই মটর সাইকেলের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অঞ্চলের সড়ক পথে অন-টেষ্ট লেখা বিপুল সংখ্যক মোটর সাইকেলের ব্যবহার মারাত্মক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কোনটি বৈধ কিংবা কোনটি চোরাই বুঝা মুশকিল। আবার প্রায় সড়কের পাশে হোটেল-রেস্তোরা, মার্কেট, ব্যাংক কিংবা অফিসের সামনে এমনকি অলিগলিতে মোটর সাইকেল পার্ক করে রাখায় যানজটে জনদুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।

সূত্রটি আরও জানায়, পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে শত শত ভারতীয় চোরাই মটর সাইকেল রয়েছে। এগুলোর কোন সরকারি নিবন্ধন নেই। এ সকল গাড়ী বেপরোয়া চলাচলসহ জন দুর্ভোগের সৃষ্টি করছে। আবার কেউ কেউ মোটর সাইকেল ব্যাবহারে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। বর্তমানে মোটর সাইকেল ব্যবসা জনপ্রিয় হয়ে উঠায় দেশী ও বিদেশী কোম্পানীর অনেক শো-রুম গড়ে উঠেছে শহর এলাকায়। এসব শো-রুম থেকে নগদ কিংবা সহজ কিস্তিতে মোটর সাইকেল কিনছেন ক্রেতারা। শো- রুমের গাড়ীর চাইতে চোরাই বা ছিনতাইকৃত মটর সাইকেল প্রায় অর্ধেক দামে পাওয়া যায় জেলার সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলের বিভিন্ন হাটে। হরেক রকম ব্রান্ডের নামী-দামী মটর সাইকেল এখন বিলাসিতার অন্যতম উপকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে’।

স্থানীয় প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এসব মোটর সাইকেলের অধিকাংশেরই সরকারি নিবন্ধন আর বেশির ভাগ চালকেরই নেই প্রশিক্ষণ তথা ড্রাইভিং লাইসেন্স। তাছাড়া, যত্রতত্রে পার্কিং করে রাস্তায় যানজট সৃষ্টির নেপথ্যে অন্যতম কারণ এসব নম্বরবিহীন মোটর সাইকেল। এ ধরনের মোটর সাইকেলের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চোরাইকৃত কিংবা ভারত থেকে চোরাই পথে আনা। এসব মোটর সাইকেল চালকদের অধিকাংশই সমাজের বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। দেখা গেছে, অনেক
মোটর সাইকেলের নম্বর প্লেট নেই, আবার অনেকের নম্বর প্লেটে ‘অন-টেস্ট’, ‘আবেদিত’, ‘প্রেস’, ‘সংবাদপত্র’, ‘সাংবাদিক’ কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম লিখে বছরের পর বছর সড়ক-মহাসড়কে চলাচল করলেও প্রশাসন অনেকটা নীরব ভূমিকায়।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাকে তার মুঠো ফোনে বার বার চেষ্টা করেও কোন জবাব নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আগামী কিছুদিনের মধ্যে অবৈধ মোটর সাইকেল উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular