ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশলাকসাম-মনোহরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক ৫৪ বছরে গিলেছে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা

লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক ৫৪ বছরে গিলেছে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা

মশিউর রহমান সেলিম, লাকসাম কুমিল্লা: কুমিল্লার লাকসাম-মনোহরগঞ্জ দীর্ঘ ১২ কিঃ মিঃ আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়নে বিগত ৫৪ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। বিশ্ব ব্যাংক, এলজিইডি ও এডিবি সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দাতা সংস্থা এর অর্থায়নে বিপুল পরিমান অর্থ বরাদ্দ দিলেও চলছে জনগন তার সুফল পায়নি ।

বিভিন্ন সময় এ উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারদের পেশী শক্তির দৌরাত্বে স্থানীয় প্রশাসন যেন অসহায়। গত ২৪ এর বন্যায় সড়কটি
ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ব্যাপক। চলমান সময়ে সড়কটি জনচলাচলে অবর্ননীয় দূর্ভোগ । সড়কটির লাকসাম অংশে কিছুটা
ভালো হলেও মনোহরগঞ্জ অংশে খানা-খন্দে ভরা। গত অর্থ বৎসরে ডিসেম্বর-জানুয়ারী মাসে সড়কটির মনোহরগঞ্জ অংশে
পুনরায় কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দে উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এ ব্যপারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন
যেন নিরব দর্শক।

১১টি ইউনিয়ন নিয়ে নব গঠিত মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর এ সড়কটির উন্নয়ন আরো তরান্বিত করতে দীর্ঘ ৫৪ বছর বিভিন্ন সরকার উদ্যোগ নিলেও রহস্যজনক কারনে মাঝ পথে থেমে কাজ যায়।

১৯৬৭-৬৮ সালে সড়কটির উন্নয়নে লাকসাম মোহাম্মদপুর পর্যন্ত ৩ কিঃ মিঃ ব্রিক সলিংয়ের কাজ শুরু হয়। ততকালীন এরশাদ সরকারের শাসনামলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম মোকছেদ আলী ১৯৮৪-৮৫ সালে সড়কটির উন্নয়নে মনোহরগঞ্জ বাজার থেকে গোয়ালিয়ারা পর্যন্ত ২ কিঃ মিঃ রাস্তা পাকাকরনের কাজ শেষ করে ক্ষান্ত হন। ১৯৯২ সালে সাবেক এমপি এটিএম আলমগীর ক্ষমতায় আসলে সড়কটির উন্নয়ন ৫০ ভাগ কাজ শেষ না করতেই রহস্যজনক কারনে বন্ধ হয়ে যায় এ সড়কের উন্নয়ন কাজ। ২০০৮-২০২৪ সালে বিগত আওয়ামী সরকারের শাসন আমলে স্থানীয় এমপি তাজুল ইসলাম এ সড়কটির উন্নয়নে একাধিকবার বিপুল অর্থ বরাদ্দে কাজ শুরু করেছে। তবে ইট, খোয়াসহ বিভিন্ন নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হওয়ায় সড়কটি মেরামতের কাজ নিয়ে এলাকার জনমনে প্রশ্নবিদ্দ।

বর্তমানে ঠিকাদারের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানান অভিযোগ, জনগণের দূভোর্গ বেড়েই চলেছে। এ উন্নয়নে কাজে প্রশাসনিক কোন তদারিক নিয়েও স্থানিয়রা সন্তুষ্ট নয়। এছাড়া জেলার দক্ষিনাঞ্চলের সবকটি সড়কের উন্নয়ন কাজ নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠছে । উন্নয়নকৃত সড়কগুলোর ভবিষ্যত অনেকটাই ঝুকিপূর্ন ও স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব এবং ভূমিকা নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে।

এ বিষয়ে জেলা-উপজেলা স্থানীয় সরকার দপ্তর, এলজিইডি ও এডিবিসহ উন্নয়নসহযোগি বিভিন্ন দাতাসংস্থার একাধিক কর্মকর্তার মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে এ সড়কের উন্নয়ন নিয়ে কিছুটা অনিয়ম ও ধীরগতির কথার সত্যতা স্বীকার করে স্থাণীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, নিম্নমানের কোন সামগ্রী সড়কের কাজে ব্যবহৃত হলে অথবা সাইটে থাকলে এবং সড়কের দুপাশের গাছ কেটে নেয়া ও পুরাতন শক্ত মাটি তুলে নতুন বালু দিয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular