মানবর্ধন পাল সর্বজনশ্রদ্ধেয় একজন বিশিষ্ট লেখক, সম্পাদক, গ্রন্থকার, অধ্যাপক এবং কবি। ‘চরিতাভিধান ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ তাঁর সকল কর্মের মধ্যে শ্রেষ্ঠ একটি সংকলন। অমানুষিক কায়ক্লেশকে দুপায়ে ঠেলে ইতিহাসের পাতা উল্টিয়ে শেকড়ের সন্ধান করে খনি থেকে আহরণ করেছেন তিনি বহু মূল্যবান মনি মুক্তো। স্থানীয় বিশিষ্টজনদের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরেছেন তিনি উল্লিখিত গ্রন্থে, যা তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে আগামী প্রজন্মের মাঝে সুদীর্ঘকাল।
জন্ম ৭ আগস্ট গাজী কালু চম্পাবতীখ্যাত শিল্প-সংস্কৃতির আকরভূমি বৃহত্তর ময়মনসিংহে। পড়াশোনা করেছেন হালুয়াঘাটের কুতিকুড়া করুয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে আনন্দমোহন কলেজে।
সুদীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী সরাইল কলেজে বাংলার সহকারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমুহ – ব্যাকরণের বিন্দুবিসর্গ, গ্রন্থোৎসর্গে নজরুল মানস, অর্থশাস্ত্র সংক্ষিপ্ত পাঠ্যধারা, শিশুতোষ আবৃত্তিকোষ, মুক্তিযুদ্ধের বিচিত ছড়া ও কবিতা, একুশের বিচিত ছড়া ও কবিতা, দুঃসময়ের কবিতা, মা নিবেদিত ছড়া ও কবিতা, শুক্লপক্ষের সাহিত্য, ব্রাত্যজনের দুঃখকথা, কবিতায় বঙ্গবন্ধু বন্দনা, শিল্পতরুর ছায়াতলে প্রভৃতি।
কলেজের অধ্যাপনা ও লেখালেখির পাশাপাশি মানবর্ধন পাল জড়িত আছেন একটি বেসরকারি সংস্থা ‘স্টেপ টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট’ এর সাথে। সংস্থাটি প্রায় ত্রিশ বছর ধরে লিঙ্গ সমতা, মানবাধিকার এবং সুশাসনের প্রচার ও সুরক্ষার আদেশ নিয়ে কাজ করে চলেছে।
সম্প্রতি তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অতিথি অধ্যাপক পদে যোগদান করেছেন। এছাড়াও তিনি মনোনীত হয়েছেন বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য।



