নিউজ ডেস্ক : সম্প্রতী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও রূপায়ণ গ্রুপ সম্পর্কিত একটি বৃহৎ দুর্নীতি মামলায় মোট ৪৩ জনকে আসামি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা রুজু করেছে (তদন্ত নম্বর-৪৩)।
মামলায় অভিযোগ সূত্রে বলা হয়েছে, গুলশানসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকা থেকে সরকারি ও ব্যক্তিগত জমি অবৈধভাবে দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ, একই সম্পত্তিকে একাধিক ব্যাংকে বন্ধক রেখে কোটি কোটি টাকার ঋণ নেয়া এবং তার অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগ করা ঋণের পরিমাণ প্রায় চার হাজার কোটি টাকার উপরে পৌঁছিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উন্মোচিত তথ্য রয়েছে।
দুদকের আগাম পদক্ষেপে মামলার এজাহারে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও তাদের পরিবারের সদস্যসহ গ্রুপের মোট ৬ জন ও রাজউকের ৩৭ জন পদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে আসামিদের পাসপোর্ট, এনআইডি ও অন্যান্য নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব, শেয়ার, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুদক; এছাড়া যারা দেশত্যাগ করতে পারে তাদের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞাও বিবেচনায় আনা হচ্ছে।
মামলায় উল্লেখিত মূল অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, নকশা অনুমোদন ও প্ল্যান পাসে অনৈতিক প্রভাব ও সহায়তা প্রদান, ভূমি দখল ও জলাভূমি ভরাট, এবং ব্যাঙ্কজালিয়াতি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, একই জমি একাধিক ব্যাংকে নামে-বিভিন্নভাবে বন্ধক রেখে ঋণ নেয়া হয়েছে এবং জমি-ভিত্তিক ওই ব্যবসা ও লেনদেনে গোপনীয় তথ্য রেখে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের ঘটনাও ধরা পড়েছে। মামলা সম্পর্কিত তথ্য পূর্বেই বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ (BFIU) ও পুলিশের গভর্নিং শাখাকে জানানো হয়েছিল।
দুদক সূত্রে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলাকালে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা দান, কাগজপত্রে ভ্রান্তি বা সম্পত্তি লুকিয়ে রাখার চেষ্টা প্রতিহত করতে দাপ্তরিক বরাদ্দ ও তদারকি বৃদ্ধি করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুতিভাবে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও কমিশন জানিয়েছে। তবে আইনগত জটিলতা ও তদন্তের বিস্তার বিবেচনায় বিষয়টি আদালতে গিয়ে শক্ত তদন্ত ও যুক্তিতর্কে নিষ্পত্তি পাবে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




