নিউজ ডেস্ক: বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খানকে ছুরিকাঘাতের মামলায় আবারও দোষ স্বীকারের আবেদন করেছেন বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের আদালতে তিনি এ আবেদন করেন। এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর তাঁর দোষ স্বীকারের আবেদন নাকচ করে মামলার বিচার চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিরিক্ত দায়রা বিচারক জি পি দেশমুখের আদালতে শরিফুল ইসলাম সব অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে চান বলে জানান। এ পর্যায়ে বিচারক কারা কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশের দূতাবাসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করার এবং অভিযুক্তকে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
শরিফুল বর্তমানে বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর নতুন আবেদনের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অভিনেতার বাসায় হামলা
ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি, ভারতের মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় সাইফ আলী খানের বাসভবনে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক অনুপ্রবেশকারী অভিনেতার ১২ তলার ফ্ল্যাটে ঢুকে তাঁকে ছুরিকাঘাত করেন। ওই সময় ৫৪ বছর বয়সী অভিনেতা একাধিক আঘাত পান।
পরে তাঁকে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয় এবং পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান তিনি।
ঘটনার দুই দিন পর পুলিশ মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন।
যেসব অভিযোগে বিচার চলছে
ভারতের ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) সংশ্লিষ্ট ধারায় শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ডাকাতি বা ছিনতাই, গুরুতর আঘাত করা এবং অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি নাগরিক আইন এবং ভারতে প্রবেশসংক্রান্ত পাসপোর্ট বিধির সংশ্লিষ্ট ধারাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৮ আগস্ট শরিফুল ইসলাম প্রথমবারের মতো দোষ স্বীকারের আবেদন করেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে ১১ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের আদালত সেই আবেদন নাকচ করে দেন এবং মামলার বিচার চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানান।
প্রায় এক মাস পর আবারও দোষ স্বীকারের আবেদন করলেন তিনি। তবে আবেদন করলেই আদালতে অভিযোগের আইনগত নিষ্পত্তি হয়ে যায় না; পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্তই এ মামলার পরিণতি নির্ধারণ করবে।
বাংলাদেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ
সর্বশেষ শুনানিতে বিচারকের নির্দেশের মূল বিষয় ছিল অভিযুক্তের সঙ্গে বাংলাদেশের দূতাবাসের যোগাযোগের ব্যবস্থা করা। কারা কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
তবে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, কিংবা নতুন আবেদনের বিষয়ে আদালত কবে সিদ্ধান্ত দেবেন—সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।-
সাইফ আলী খানকে ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি ভারতীয় বিনোদনজগৎ ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। মামলায় অভিযুক্তের পুনরায় দোষ স্বীকারের আবেদন এবং বাংলাদেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ এখন পরবর্তী বিচারিক পদক্ষেপের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি ও প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই)।




