নিউজ ডেস্ক : ভারতে ই-২০ (E20) পেট্রোল চালুর সরকারি নীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আবারও তীব্র হয়েছে। দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন। তার দাবি, ই-২০ পেট্রোলকে বাধ্যতামূলক না করে সাধারণ মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পেট্রোল এবং ই-২০—উভয় বিকল্পই উন্মুক্ত রাখতে হবে। এ দাবিতে অনলাইন আবেদনপত্রে দুই লাখের বেশি মানুষের সমর্থন পাওয়া গেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল টাউন হল অ্যাগেইনস্ট ই-২০’ অনুষ্ঠানে কেজরিওয়াল জানান, জনগণের স্বাক্ষরসংবলিত আবেদনপত্র প্রধানমন্ত্রী মোদির হাতে পৌঁছে দিতে তিনি সমর্থকদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে পদযাত্রা করবেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভোক্তাদের যেন ই-২০ কিংবা বিশুদ্ধ পেট্রোল—দুটির মধ্যে পছন্দের সুযোগ দেওয়া হয়।
এএপি নেতার অভিযোগ, ই-২০ জ্বালানি চালুর ফলে অনেক যানবাহনের জ্বালানি দক্ষতা কমছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ইঞ্জিনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে এমন নীতি বাস্তবায়ন করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞ, যানবাহন মালিক এবং নাগরিকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে নতুন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
কেজরিওয়াল আরও বলেন, সরকারের উচিত ই-২০ পেট্রোলের পাশাপাশি সাধারণ পেট্রোলও বিক্রির সুযোগ রাখা। তার ভাষায়, জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ভোক্তার থাকা উচিত। তিনি দাবি করেন, এ আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার একটি গণআন্দোলন।
এর আগে এএপি ‘ন্যাশনাল টাউন হল অ্যাগেইনস্ট ই-২০’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে জনমত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। দলটির দাবি, অনলাইন পিটিশনে দুই লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন এবং এই সংখ্যা আরও বাড়ছে। কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নাগরিকদের সরাসরি ও অনলাইনে যুক্ত হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, ই-২০ জ্বালানি নীতি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, আমদানি-নির্ভরতা কমানো, কৃষকদের জন্য নতুন বাজার সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। সরকারের মতে, ধাপে ধাপে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন : 
তবে বিরোধী দল এবং আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নীতিটি বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত জনপরামর্শ ও প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন করা হয়নি। তাদের আশঙ্কা, বাধ্যতামূলকভাবে ই-২০ চালু হলে পুরোনো মডেলের বহু যানবাহনের মালিক অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারেন। এ কারণে তারা সরকারের কাছে নীতিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন।-
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ই-২০ ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ আন্দোলন আগামী দিনে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি নীতি, পরিবেশ সুরক্ষা, ভোক্তার অধিকার এবং অর্থনৈতিক প্রভাব—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখে সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




