ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকইরানে হামলা স্থগিত, সমঝোতার শর্তে ট্রাম্প

ইরানে হামলা স্থগিত, সমঝোতার শর্তে ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নতুন মোড় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের পরিস্থিতি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি সমঝোতা চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকবে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে “খুব কঠোর” সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির প্রাথমিক কাঠামো নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে। তার দাবি, প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পরিকল্পিত মার্কিন হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে দ্রুত সমঝোতা না হলে সামরিক বিকল্প আবারও বিবেচনায় আনা হবে।

হোয়াইট হাউসের এ ঘোষণার পর ইসরায়েলও জানিয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সুযোগ দিতে তারা আপাতত নতুন হামলা থেকে বিরত থাকতে সম্মত হয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক শত্রু ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইরানের দিক থেকে পরিচালিত এসব ড্রোন উত্তর কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি এবং বুবিয়ান দ্বীপের কিছু বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কিছু সম্পদের ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

একই সময়ে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি কিছুটা কমালেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। কূটনৈতিক আলোচনা সফল না হলে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় ব্যাপক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে কুয়েতে ড্রোন হামলার ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে।-

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই সমঝোতার প্রত্যাশা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান, ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতির কারণে পরিস্থিতি যে কোনো সময় নতুন মোড় নিতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular