আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।
গত মঙ্গলবার ৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হওয়া ঐই বৈঠক শেষে রাশিয়ার প্রতিনিধিরা ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও ইতিবাচক দৃষ্টিতে বৈঠকের সারকথা জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।
রাশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক সংলাপের সূচনা হয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের মতো নয়, যারা কখনোই রাশিয়ার অবস্থান বোঝার চেষ্টা করেনি, এই আলোচনায় সুস্পষ্টভাবে সংলাপ শুরু করার, রাশিয়ার অবস্থান বোঝার এবং পারস্পরিক সমঝোতার বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে।
এই বৈঠক হচ্ছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপের পর। ফোনালাপে দুই নেতা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরুর ব্যাপারে পরস্পরকে তাগিদ দেন।
বৈঠক শেষে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ট্রাম্পই প্রথম পশ্চিমা নেতা, যিনি এই কথা দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য করতে চাওয়া ছিল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সবচেয়ে বড় ভুল।
বৈঠকে দুই দেশ সম্মত হয়েছে- তারা ‘উচ্চ স্তরের দল’ গঠন করবে, যা ইউক্রেন-রাশিয়া চলমান যুদ্ধের অবসানে কাজ শুরু করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস এক বিবৃতিতে বলেছেন, একটি ফোনকল এবং একটি বৈঠক শান্তির স্থায়ী প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়। আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আজ (মঙ্গলবার) আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সামনে এগিয়ে নিয়েছি।
ব্রুস আরও বলেন, এ ছাড়া দুই দেশ তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে বিদ্যমান অসন্তোষজনক বিষয়গুলোও মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা পরস্পরকে শুনেছি। ইউক্রেন বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষকে বাদ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের কোনো চুক্তি হবে না- এটা নিশ্চিত করছি।
তিন বছর আগে রাশিয়া ইউক্রেনে সর্বাত্মক হামলা চালানোর পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হলো।



