স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের কাছে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন বহু যাত্রী।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে দেশটির তোলেদো প্রদেশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর মাদ্রিদ, সিউদাদ রিয়েল এবং আন্দালুসিয়ার মধ্যকার সমস্ত ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিগন্যালিংয়ের একটি মূল ত্রুটি মেরামতের দায়িত্বে থাকা এক কর্মীর ‘মানবিক ভুলের’ কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ‘ইরিও’ ট্রেন সম্পর্কে ওই কর্মী ‘এভিই’ হাই-স্পিড ট্রেনের চালককে সতর্ক করতে ব্যর্থ হন।
স্পেনের রেলব্যবস্থা পরিচালনাকারী সংস্থা এডিআইএফ (ADIF) এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় জানায়, মাদ্রিদ-আন্দালুসিয়া হাই-স্পিড রেললাইনে দক্ষিণগামী রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রেনফে এভিই ট্রেনটি একটি দাঁড়িয়ে থাকা ইরিও ট্রেনকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ট্রেনের বগিগুলো ছিটকে রেললাইনের পাশের খাদে গড়িয়ে পড়ে।
কাস্তিয়া লা মানচা অঞ্চলের মুখপাত্র এস্থার পাদিলা জানান, দুর্ঘটনার সময় রেনফে ট্রেনে ৩৯৭ জন এবং ইরিও ট্রেনে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ইতালীয় মালিকানাধীন ট্রেন কোম্পানি ইরিও এক বিবৃতিতে জানায়, তারা দ্রুত নিরাপত্তা প্রোটোকল সক্রিয় করেছে এবং উদ্ধারকাজে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
চলতি বছরে দেশের হাই-স্পিড রেল নেটওয়ার্কে এমন মর্মান্তিক দ্বিতীয় দুর্ঘটনার খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, তোলেদোর এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আমি সম্পূর্ণ স্তব্ধ। ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্পেনের আদামুজে লাইনচ্যুত ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। সেসময় দেশটির বিস্তৃত হাই-স্পিড রেল ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে। এর আগে ২০১৩ সালে ৮০ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছিল, যার পর আজকের এই দুর্ঘটনাটি স্পেনের ইতিহাসে অন্যতম মারাত্মক রেল বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হলো।
সূত্র: এনডিটিভি



