বিজয় কর রতন মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:- কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম সহ আশেপাশের হাওরে আগাম জাতের বোরো ধানকাটা শুরু হয়েছে। এবছর ধানের বাম্পার ফলন হলেও, কিছু কিছু বোরো জমিতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে দীর্ঘ ৫ মাস যাবৎ কোনো বৃষ্টি নেই। বৃষ্টি হলে পোকার আক্রমণ হত না অন্য দিকে বৃষ্টি না থাকার কারণে হাওরে জমিতে সেচ স্কীমের চার্জ অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি।
কৃষকরা জানান,প্রথম ধাপে হাওরে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড হীরা (২) হীরা (৫), মনিকা,ইস্পাহানি, ৮৯,৯২,১২০৩,১২০২,কৃষক বন্ধু জাতের ধান।এসকল ধান একর প্রতি ৯০ থেকে ১০০ মণ ফলন হয়। বর্তমানে দেশীয় শ্রমিকরা প্রতি একর জমির ধান কাটছে ১০ হাজার টাকা।অন্যদিকে হারবেষ্টার মেশিনে একর প্রতি ৭ হাজার টাকায় ধান কাটছে। মেশিনের কাটার সুবিধা জমির ধান জমিতেই কেটে বস্তায় পুড়ে ফেলা যায়। পরে এসকল ধান বাড়ির আঙ্গিনায় খলায় নিয়ে এসে গোলায় তুলে ফেলা হয়।দেশীয় শ্রমিকরা ধান কেটে জমি থেকে ট্রলিতে তুলে দেয় পরে খলায় এনে মাড়াই মেশিন দিয়ে ধান ছুড়তে হয়।এতে কৃষকের ভোগান্তিও কম নয়।এবছর হারবেষ্টার মেশিন খুব কম দেখা গেছে হাওরে মেশিন বেশি থাকলে দেশীয় শ্রমিকরা কম টাকাই জমি কাটতে বাধ্য হত।
হাওরের কৃষকরা জানান,ধান কাটার পর জমি থেকেই কাঁচা আধা পাঁকা ধান ৮শ থেকে ৯শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে করে সেচ স্কীমের চার্জ, স্যার, কীটনাশক দিয়ে লোকশান গুণার সম্ভাবনা রয়েছে। অষ্টগ্রামের বড় হাওরের কৃষক, মো: মঞ্জিল মিয়া জানান,নিজের জমি ও বর্গা জমি সহ ২২ একর জমিতে বোরো আবাধ করেছেন।ফলন ভালো হলেও প্রাকৃতিক দূর্যোগের ভয়ে কিছুটা আধা পাঁকা ধান কাটতে হচ্ছে,কারণ ৬ মাস যাবৎ বৃষ্টি নেই। প্রচন্ড গরমে হঠাৎ যদি বৃষ্টি নামে তবে সহজেই বৃষ্টি নাও থামতে পারে এরজন্য কিছু লোকশান হলেও বছরের খোরাকির ধান রেখে জমিতেই বিক্রি করে দিচ্ছেন। এনিয়ে হাওরের অন্যান্য কৃষকরা শংকায় রয়েছে।
অপর কৃষক মিঠামইনের নধার হাওরের আরমান মিয়া ও হারুন মিয়া জানান,ফলন ভালো হয়েছে। তারা দুজনে ৮ একর জমি করেছেন। পোকার কারণ ও প্রচন্ড রোদে ধানের থোর পুড়ে গেছে, এরপরও গত বছরের চেয়ে ধান বেশি হবে বলে আশা করছেন। তবে প্রাকৃতিক দূর্যোগের আশংকায় রয়েছেন তারা দুজনই। এই হাওরে অন্তত শতাধিক কৃষক তাদের আধা পাঁকা ধান নিয়ে ভয়ে দিন যাপন করছেন।তারা বৃষ্টির আশঙ্কা করছেন। যদি বৃষ্টি নামার পর দীর্ঘ মেয়াদী হয় তবে ফসল কাটা নিয়ে তারা দুর্ভোগে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন।
কৃষি অফিস সূএে জানা যায়, ইটনা,মিঠামইন, অষ্টগ্রামের বিভিন্ন হাওরের এবছর ৬৭ হাজার ২শ ৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাধ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্য মাএা ধরা হয়েছে ৩ লক্ষ ৪৭ হাজার ৯০ মে:টন চাল। মিঠামইন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম অপু জানান, মিঠামইনে বোরো আবাধ হয়েছে ১৫ হাজার ৬৯৫ হেক্টর লক্ষ্য মাএা ৮০ হাজার মে:টন চাল।হাওরে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
কৃষি অফিস থেকে মাট পর্যায়ে কৃষকদের সার্বিক সহয়তা করা হয়েছে। বীজ, স্যার,কীটনাশক বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আশা করছেন বিগত বছরের চেয়ে ফলন ভালো হবে। অষ্টগ্রাম কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ পন্ডিত বলেন,অষ্টগ্রামে এবছর ২৪ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাধ করা হয়েছে । লক্ষ্য মাএা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৫০০ মে:টন চাল।হাওরে বৈটা খালি নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণে কৃষকের ক্ষতি হয়েছে কৃষকরা সেচ দিতে পারেনি জমিতে। ইটনা,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা একই কথা বলেন, ফলন ভালো হয়েছে। এবছর ২৭ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাধ হয়েছে। লক্ষ্য মাএা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৫০৫৯০ মে:টন চাল।



