ঢাকা  মঙ্গলবার, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখোলা কলামহাসপাতালে চিকিৎসা অব্যবস্থা, জনরোষ ও সহিংসতা

হাসপাতালে চিকিৎসা অব্যবস্থা, জনরোষ ও সহিংসতা

প্রফেসর মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ফরাজী
 
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ, প্রতিবাদ, হামলা, ভাঙচুর ও গণপিটুনির ঘটনা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
 
অভিযোগ
 
কোথাও রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ, কোথাও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ, আবার কোথাও ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ। অন্যদিকে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
 
সংকট
 
কেবল স্বাস্থ্যখাতের সংকট নয়; এটি জনআস্থার সংকট, ব্যবস্থাপনার সংকট এবং জবাবদিহি সংকট এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
 
সমস্যার কারণ
 
অতিরিক্ত রোগীর চাপ: অনেক সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী আসে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামো দিয়ে এত রোগীকে মানসম্মত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
 
জনবলের ঘাটতি: অনেক হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও সহায়ক কর্মীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে অপেক্ষার সময় বাড়ে, রোগীর অসন্তোষও বাড়ে।
 
ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা: সময়মতো রোগী দেখা, জরুরি সেবা, বেড ব্যবস্থাপনা, রেফারেল ব্যবস্থা, ওষুধ সরবরাহ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান।
 
যোগাযোগের ঘাটতি: অনেক সময় রোগীর স্বজনদের রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার ঝুঁকি বা সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে জানানো হয় না। ভুল বোঝাবুঝি থেকে ক্ষোভ তৈরি হয়।
 
বেসরকারি খাতে নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা: সব বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক একই মান বজায় রাখে না। কোথাও দক্ষ জনবলের অভাব, কোথাও পর্যাপ্ত তদারকির অভাব নিয়ে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
 
অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা না থাকা: রোগীর পরিবার অনেক সময় মনে করে, অভিযোগ করেও বিচার মিলবে না। ফলে কেউ কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
 
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব: অনেক ঘটনার ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়। কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে, আবার কিছু ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ বা যাচাইবিহীন তথ্যও ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
 
পেশাজীবীদের উদ্বেগ: সব পেশাজীবী নীরব—এমনটি বলা সঠিক হবে না। অনেক চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল প্রশাসক বিভিন্নভাবে সমস্যার সমাধানে কাজ করছেন। তবে জনসাধারণের কাছে তা দৃশ্যমান নাও হতে পারে। এর সম্ভাব্য কারণগুলো হলো—
                           -প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা
                           -সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার সীমা
                           -আইনি জটিলতা
                           -সমালোচনার ভয়
                           -পেশাগত সংগঠনগুলোর তুলনামূলক দুর্বল ভূমিকা
                           -গণমাধ্যমে ইতিবাচক উদ্যোগ কম প্রচার পাওয়া
 
হাসপাতাল ভায়োলেন্স
 
হাসপাতালে সহিংসতার পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করে—
                           -চিকিৎসা নিয়ে হতাশা
                           -দীর্ঘ অপেক্ষা
                           -মৃত্যুর পর আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া
                           -গুজব ও উত্তেজনা
                           -আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা
                           -নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা
 
নিরপেক্ষ তদন্ত
 
কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে চিকিৎসায় অবহেলা বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার হওয়া উচিত।
RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular