নিউজ ডেস্ক : ২০২৬ বিশ্বকাপ ড্র-এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা জটিলতা ও ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ভ্রমণনীতি ক্রীড়া কূটনীতিতে সরাসরি দেখা দিয়েছে; বিশেষ করে ইরানকে এর তীব্র প্রভাব পড়েছে—ইরান জানিয়েছে, তাদের কয়েকজন উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিকে ভিসা না দেওয়া হলে তারা ওয়াশিংটনস্থ ড্র বর্জন করবে। এই অভিযোগ ও সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে ও কূটনীতি পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের ৯ সদস্যের ভিসা তালিকা পাঠানোর পরই হোস্ট দেশ মাত্র তিনজনের ভিসা দেয়ার কথা জানিয়েছে বলে সংবাদে পাওয়া গেছে; ফলে আইআরআইএফএ জানিয়েছে—ইংরেজিতে “সব সদস্যদের না পাঠালে” ড্র বর্জন করা হবে। এই পরিস্থিতি দ্রুতই ক্রীড়া ও কূটনৈতিক অসঙ্গতির রূপ নিয়েছে এবং ফিফাকে (FIFA) মধ্যস্থতা করার জন্য চাপ তৈরি করেছে।
কয়েকটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদসাইটে আরও খবর এসেছে যে সাম্প্রতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তালিকায় কিছু সরকারি কর্মকর্তা/নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম যুক্ত করার ফলে “৬ জন” অনিচ্ছিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে — এ কারণে ওই ব্যক্তিদের ড্র-অবসর বা অংশগ্রহণে বাধা পড়ার সম্ভাবনা উঠেছে; এসব রিপোর্ট ফিফা ড্রে-র সামগ্রিক উপস্থিতি ও বৈশ্বিক অংশগ্রহণকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তবে এই ধরণের তালিকা ও সিদ্ধান্ত সরকারি নীতির আওতায় এবং প্রতিটি কেস আলাদা আইনি ব্যাখ্যা দাবি করে।
এই ইস্যুর ওপর মানবাধিকার সংস্থার সতর্কবার্তাও উঠেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) ফিফাকে চিঠি পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করেছে — ফিফা যখন নিজস্ব ‘পিস প্রাইজ’ চালু করছে, তখন কীভাবে অংশগ্রহণ ও মানবাধিকার বিষয়ক নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে; HRW ফিফাকে প্রাইজের প্রক্রিয়া, মানদণ্ড ও জাজিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অনুরোধ করেছে। এই নির্দেশিত প্রশ্নসূত্র ফিফা ও ইনফান্তিনোকে নৈতিক ও বিধিগতভাবে ব্যাখ্যার চাপ দিচ্ছে।
পরিস্থিতি বোঝাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের গত বছরের কঠোর ভ্রমণবিধি ও পরবর্তীতে চলমান অপ্রতিসিধানক আটকে দেবার নীতি একটি প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করে—যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট দেশ ও ব্যক্তিদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ সম্প্রসারিত হওয়ায় ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বাঁধা পড়ছে এবং রাষ্ট্রীয় কূটনীতি-ক্রীড়া সম্পর্কেও প্রশ্ন তুলছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের মঞ্চে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা ভিসা অপ্রতুলতা ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি’কে দুর্বল করে, দর্শক ও টিম নির্বাচনকেও প্রভাবিত করতে পারে।
যদি দেশগুলো প্রতিনিধিদের পুরোভাবেই পাঠাতে না পারে, তাহলে ড্র-এর গ্রহণযোগ্যতা ও সমতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে—ফিফার ন্যায়সঙ্গততা ও বিশ্বকাপ-আয়োজক উভয়েই চাপ পাবে।
ইরান ও অনুরূপ দেশগুলো ড্রে-বর্জন করলে দর্শক ও মিডিয়া আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে এবং ক্রীড়া রাজনীতি তীব্র হবে।
মানবাধিকার সংস্থা ও গবেষকরা ফিফার নীতি-পদ্ধতি ও স্বচ্ছতা দাবি করে চলেছে; ফিফাকে দ্রুত স্পষ্ট, নীতিসম্মত এবং মানবাধিকার সংবেদনশীল ব্যাখ্যা দিতে হবে।
কূটনৈতিকভাবে দ্রুত সমস্যাগ্রস্ত প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ ভিসা বা অতিক্রমী ব্যবস্থার অনুরোধ, ফিফার পক্ষ থেকে হোস্ট সরকারের সঙ্গে সমন্বয়, এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া-কূটনীতির মাধ্যমে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা—এই উপায়গুলো আলোচনায় থাকা উচিত। ক্রীড়া-রাজনীতি আলাদা রাখা কঠিন; তবু বিশ্বকাপের মতো ইভেন্টে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সকল সদস্যের দায়িত্ব। সূত্র: আল জাজিরা
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




